দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ৩০টি হিন্দু পরিবার ৮ মাস ধরে গৃহবন্দী থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলাম গৃহবন্দী লোকদের খোঁজ নিতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। বাড়িতে ঢুকতে রাস্তা খুঁজে পাননি তিনি।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় একটি বেঞ্চ এনে তার ওপর পা রেখে কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে দেওয়াল এবং তাল গাছের নিচ দিয়ে সরু পথে আসা যাওয়া করতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামের ডা. নিবারণ চন্দ্র সূত্র ধরের বাড়ির লোকদের আসা যাওয়ার রাস্তাটি প্রায় ১৫০ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসলেও গত জানুয়ারি মাসে রাস্তার পাশের জমির মালিক মরহুম আবিদ আলী সরকারের ছেলেরা রাস্তাসহ সীমানা প্রাচীর গড়ে তুলেন। এতে প্রায় ৩০টি সনাতন ধর্মালম্বী পরিবার গৃহবন্দী হয়ে পড়েন। অপরদিকে শ্রী শ্রী শ্যামাকালী মন্দিরেও ভক্তরা আসা-যাওয়া করতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। কেউ মারা গেলে শ্মশানে নিতে পারছে না। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এমনকি ছেলে-মেয়েদের বিয়ে সাধির ক্ষেত্রে দেখাশুনা করতে বর বা কণেপক্ষ বাড়িতে আসতে পারছে না। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একাধিকবার শালিসেও রাস্তা অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ধীরেন্দ্র সূত্রধরকে আহ্বায়ক করে ‘পদ্মকোট রাস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ গঠন করেন। ওই কমিটির পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বরাবরে রাস্তা অবমুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে গৃহবন্দি লোকজন বিকল্প পথ হিসেবে পাশের বাড়ির উঠান দিয়ে আসা যাওয়া করে। সে রাস্তাটিও ৩-৪দিন পূর্বে কাঁটাবেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
‘পদ্মকোট রাস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক ধীরেন্দ্র সূত্রধর বলেন, গত সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘পদ্মকোট রাস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটি’র নেতৃবৃন্দরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানার সঙ্গে দেখা করেন এবং ঘটনার সমাধান না করলে তারা ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ডেকে এনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলামকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তদন্তে আসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলাম গৃহবন্দি লোকদের খোঁজ খবর নিতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। বাড়িতে ঢুকতে যেয়ে রাস্তা খুঁজে পাননি তিনি।
জমির মালিক মরহুম আবিদ আলী সরকারের ছেলেরা সবাই দেশের বাইরে থাকেন। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টায় মরহুম আবিদ আলী সরকারের ছেলে নেদারল্যান্ড অবস্থানরত জামাল উদ্দিন সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাদের এখানে কেনা পৈত্রিক সম্পত্তি ১ একর ৫ শতাংশ। দখলে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি পাচ্ছি না। তারপরও জমির উত্তর পাশে বর্তমান চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন ৪ ফুট প্রশস্ত জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। চেয়ারম্যান সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পশ্চিম এবং দক্ষিণ পাশে প্রচুর খাস জমি আছে, সে জমি থেকে ২০-২৫ ফুট জমি ভরাট করে নিলে রাস্তার আর কোন সমস্যা থাকে না। সেটা না করে সবাই আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপর দিয়ে রাস্তা চায়। এর আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির সরিয়ে জমি নিতে তাদের মন্দির তৈরি করে দিয়েছি।
গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ হুমায়ুন কবির বলেন, জামাল সাহেবেরা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় দেড়শত বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ওই পরিবারগুলোকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। আমরা একই গ্রামের কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টারসহ এলাকার গন্যমান্য লোকদের সহযোগিতায় একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। জমির মালিক পক্ষের কেউ দেশে না থাকায়, তাদের ওয়ারিশসহ উভয়পক্ষকে ডেকে এনে তাদের পরামর্শক্রমেই রাস্তা অবমুক্ত করার চেষ্টা করব।
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানা বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছি।
জেবি