দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসার গেটের বাইরে থেকে এক নাবালক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বাদিনীর নাবালক ছেলে সাইমুন ইসলাম সাইম ‘আল ইমরান’ মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের হলে আসামিরা তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর অটোরিকশায় তুলে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে লক্ষ্মীপুরের ধোপাডাঙ্গা এলাকার রবিউল ইসলামের এক অজ্ঞাত আত্মীয়ের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জন ওই শিশুকে সেখানে নিয়ে নির্যাতন করেন। পরে বাদিনী ও তার শাশুড়ির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে শিশুটিকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি বাদিনী মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির সন্ধান শুরু করেন। পরে একই দিন বিকেল ৪টার দিকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামের একটি ভাড়া বাসার অন্ধকার কক্ষ থেকে শিশুটিকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পিযুষ চন্দ্র সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে গাইবান্ধা সদর থানার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দারপাড় চর এলাকা থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি সজল মিয়া ও ২ নম্বর আসামি সুলাইমান ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এমএস/