দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নিজেদের দেশের দাবির সমর্থনে ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত নাটকীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টমাস টুখেলের দলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা উদযাপনের সময় একটি ব্যানার ধরে রাখেন, যেখানে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’।
দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হলেও এর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ৭৪ দিনের ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য নিহত হন। দ্বীপের তিন বাসিন্দারও মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০১৪ সালে একই বার্তা লেখা ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তখন বলেছিল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় অসদাচরণবিষয়ক নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।
সেমিফাইনালের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে আর্জেন্টিনার সেনাদের দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার।’
ম্যাচের আগে ভিয়ারুয়েল সেমিফাইনালকে ‘দখলদারদের নিজেদের জায়গা দেখানোর’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ব্রিটেনের ব্যবসা ও বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল আর্জেন্টিনার ব্যানার প্রদর্শনকে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফিফা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে।
তবে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, তিনি ফুটবল ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাতে চান না। তিনি বলেন, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং অতীতের দুঃখজনক ঘটনাগুলোর প্রতি সম্মান রেখেই বিষয়টিকে দেখা উচিত।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক উত্তেজনার কারণে সেমিফাইনাল ম্যাচটি বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
/অ