দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আটলান্টায় মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি শুধু ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ ও দুই প্রজন্মের সেরা তারকাদের মুখোমুখি হওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। কারণ আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৫ ম্যাচ খেলা লিওনেল মেসি এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি দেখিয়ে চলেছেন তার জাদু। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছেন সেমিফাইনালে। এখন পর্যন্ত করেছেন ৮ গোল, সঙ্গে রয়েছে ২টি অ্যাসিস্ট। গোলের পাশাপাশি কঠিন মুহূর্তে দলকে বাঁচাতে তার সিদ্ধান্ত, পাস ও সৃজনশীলতাই হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বয়সের সঙ্গে মেসির খেলার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। আগের মতো পুরো মাঠে অবিরাম দৌড়ানো নয়, বরং নিজের জন্য সঠিক জায়গা খুঁজে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরক আক্রমণ তৈরি করছেন তিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একটি ম্যাচে হাঁটতে হাঁটতে ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন, এমন ঘটনা ঘটেছে দুইবার।
তবে মেসির এই ধীরগতির চলাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে ইংল্যান্ড। কারণ সুযোগ পেলেই মুহূর্তের মধ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দিতে পারেন তিনি। এবারের আসরে গোলের জন্য সবচেয়ে বেশি শট নিয়েছেন মেসি—৩৩টি। এর মধ্যে ১৭টি শট ছিল পেনাল্টি এলাকার বাইরে থেকে।
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও এগিয়ে আছেন মেসি। এমবাপ্পের সঙ্গে তার গোলসংখ্যা সমান হলেও সামনে রয়েছে আরও একটি বা দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডও আত্মবিশ্বাসী। দলটির মূল ভরসা জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন। এবারের বিশ্বকাপে দুজনেই করেছেন ৬টি করে গোল। বেলিংহাম শেষ দুই নকআউট ম্যাচে মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলের বড় নায়ক হয়েছেন।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল মনে করছেন, বেলিংহাম বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেসিকে থামানো। টুখেল বলেছেন, মেসি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঠে হাঁটলেও যেকোনো মুহূর্তে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি বলেন, মেসি একজন ‘নীরব ঘাতক’। তাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না। ইংল্যান্ডকে তার আক্রমণাত্মক মুহূর্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও ইংল্যান্ডের দুই বড় তারকা কেইন ও বেলিংহামকে নিয়ে সতর্ক। তার মতে, এই দুই খেলোয়াড় বিশ্বের সেরাদের একজন এবং তাদের আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বিশ্বকাপে দুই দলের ইতিহাসও এই ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর আগে বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও অসাধারণ দ্বিতীয় গোলের কারণে আর্জেন্টিনা স্মরণীয় জয় পায়। ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হারে ইংল্যান্ড। ২০০২ সালে আবারও ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয় পায়। সর্বশেষ ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জিতেছিল।
এবারের সেমিফাইনালেও দুই দলের পথচলা খুব সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে কয়েকবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও সেরা ছন্দে না থাকলেও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও তারকাদের মুহূর্তের জাদুতে শেষ চারে এসেছে।
ইংল্যান্ডের সামনে রয়েছে ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ। ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুটি বড় ফাইনালে হারের হতাশাও রয়েছে তাদের।
আর্জেন্টিনার জন্য লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটি আবারও মেসিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তাও বাড়িয়েছে আটলান্টা পুলিশ। দুই দেশের সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
সব মিলিয়ে আটলান্টার সেমিফাইনালে প্রশ্ন একটাই—মেসির জাদু নাকি ইংল্যান্ডের তারকাদের দাপট? ইতিহাসের মঞ্চে ফাইনালের টিকিট কার হাতে যাবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।
সূত্র: সিএনএন
/অ