দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই বড় দুশ্চিন্তার নাম ফরোয়ার্ড ফলারিন বালোগুনের লাল কার্ড।
গত মার্চে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘আমরা কেন পারব না?’ সেই বাক্যই পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার দলের অনুপ্রেরণার মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে। এমনকি তার কার্যালয়েও এই বার্তাসংবলিত একটি অনুপ্রেরণামূলক পোস্টার রয়েছে।
বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন নকআউট পর্বে। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সিয়াটলে।
সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয়টি ছিল পুরোপুরি প্রাপ্য। তবে এই জয়ের মূল্যও দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
২৪ বছর বয়সী ফলারিন বালোগুন প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। এর আগে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দলের বড় জয়ে করেছিলেন দুটি গোল।
ম্যাচে আরও গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। একটি শট অল্পের জন্য বাইরে যায়, একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং আরেকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লাগে।
তবে ম্যাচের এক ঘণ্টার কিছু পরই তার বিশ্বকাপ অভিযানে বড় ধাক্কা আসে। বাম দিক দিয়ে আসা একটি উঁচু বলের দখল নিতে গিয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বালোগুন। বল আড়াল করার সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় সামনে চলে আসেন এবং বালোগুনের পা মাটিতে নামার সময় মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনে পড়ে যায়। এতে তার গোড়ালি মারাত্মকভাবে বেঁকে যায়।
ঘটনাটি প্রথম দেখায় দুর্ঘটনা বলেই মনে হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে ধীরগতির পুনঃপ্রচার দেখে ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এই লাল কার্ডের মাধ্যমে নতুন এক পরিসংখ্যানেও নাম লেখান বালোগুন। এক আসরে তিন গোল করা মাত্র তৃতীয় মার্কিন ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বে গোল করার পর লাল কার্ড দেখা চতুর্থ খেলোয়াড়ও তিনি। এর আগে ১৯৬২ সালের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের গ্যারিঞ্চা, ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের রোনালদিনিও এবং ২০০৬ সালের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান এই ঘটনায় জড়িয়েছিলেন।
লাল কার্ডের কারণে বালোগুন অন্তত এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকছেন। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন না। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে উঠলেও তিনি বাইরে থাকতে পারেন।
তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রিকার্দো পেপির। তবে চলতি বিশ্বকাপে ১৮৪ মিনিট খেলেও এখনো গোল পাননি তিনি। বিশ্বকাপের আগে চারটি প্রীতি ম্যাচেও তার গোল ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে তার সর্বশেষ গোল আসে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেশনস লিগে।
দলের ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডস বলেছেন, পুরো দল বালোগুনের পাশে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছি, আমরা তার পাশে আছি। আমরা ২৬ জনের দল, একজনের নয়। পরের ম্যাচে তাকে মিস করব, কিন্তু যে-ই তার জায়গায় খেলবে, সে ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করবে। একজন না থাকলে আরেকজন সামনে আসে। আমরা শুধু একজন বা ১১ জনের দল নই।’
পচেত্তিনোও একই বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর আমি অনুভব করেছি, এটাই সেই মুহূর্ত যখন আমাদের দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। খেলোয়াড়দের চোখে আমি দেখেছি, তারা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এই দলটি এই দেশে নতুন এক ঐতিহ্য তৈরি করছে। আমাদের অসাধারণ সমর্থকদের নিয়ে সবকিছুই সম্ভব। আমরা কেন পারব না?’
অন্যদিকে সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড সু স্মিথের মতে, বালোগুনের লাল কার্ডের পর আরও সংগঠিত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তার ভাষায়, ‘বালোগুন মাঠ ছাড়ার পর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিণত দলকে দেখেছি। রক্ষণে তারা ছিল দুর্দান্ত। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্য জয়। তারা যেভাবে খেলছে এবং যতদূর এসেছে, তাতে অনেককেই অবাক করেছে। বেলজিয়ামের জন্যও তারা কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠবে।’
সূত্র: বিবিসি
/অ