দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নকআউটের কথা চিন্তা করে শুরুর একাদশে নিয়মিত অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে দলে রাখেনি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই এক গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এই গোলের মধ্যদিয়ে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়েন এলএমটেন।
রোববার (২৮ জুন) ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয় নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠেন মেসি, যার এক গোল এনে দিয়েছে দুটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।
নকআউট নিশ্চিত থাকায় আগের ম্যাচের তুলনায় একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। তবু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জিওভানি লো সেলসো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
১৯ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের শিকার হন লো সেলসো। সেই ফ্রি-কিক থেকেই নিজের ভুলে যাওয়া উদযাপন ফিরিয়ে আনেন তিনি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জর্ডানের রক্ষণপ্রাচীর ভেদ করে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলার কিছুই করার ছিল না।
প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলখাতা খোলেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় জর্ডান। ৫৫ মিনিটে মুসা আল-তামারির গোলে ব্যবধান কমিয়ে আনে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। গোলটি জর্ডানের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে দলটি।
জর্ডানের গোলের পর কিছুটা চাপে পড়তে শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক তখনই স্কালোনির তুরুপের তাস হয়ে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ডালাস স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
এরপর অপেক্ষা ছিল শুধু একটি মুহূর্তের। সেই মুহূর্তটি আসে ম্যাচের ৮০ মিনিটে। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ গজ বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সবাই যখন মেসির পরিচিত বাঁকানো শটের অপেক্ষায়, তখন তিনি বেছে নেন ভিন্ন পথ। নিচু শটে জর্ডানের রক্ষণদেয়াল ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। আবুলাইলা ভুল দিকে ঝাঁপ দেয়ায় বলের নাগালই পাননি।
গোলটি শুধু আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেনি, ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায়ও লিখেছে।
কেএম