দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাউলো কোয়েলহোর ‘দ্য আলকেমিস্ট’-এর বিখ্যাত উক্তি “যদি তুমি কোনো কিছু পুরো হৃদয় দিয়ে চাও, তবে পুরো মহাবিশ্ব তা পাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে” খেলাধুলার মাঠে বারবার আলোচিত হয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অভিজ্ঞতা যেন সেই দর্শনের উল্টো গল্পই বলছে।
নকআউট পর্বে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল পশ্চিম এশিয়ার এই দলটি। শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে পারত তারা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে খালিলজাদেহর গোলে স্বপ্নও দেখেছিল ইরান শিবির। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপে সেই গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে।
সেই মুহূর্তে পুরো ইরান যেন উৎসবে মেতে উঠেছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলে দেয় সবকিছু। অফসাইডের নিয়মের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যায় গোলটি বাতিল হওয়ায় তাদের স্বপ্ন ঝুলে যায়।
এরপর অন্যান্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করতে হয় ইরানকে। ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পর এবং উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোর ম্যাচের ফলেও কিছুটা আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচের নাটকীয় শেষ মুহূর্তে সমতার ফলে ইরানের নকআউট স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
তবে হতাশার মাঝেও পরিসংখ্যান ইরানের পাশে ছিল। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা হারেনি। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দলটি একাধিক ম্যাচে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
রাজনৈতিক ও ভিসাজনিত জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে গিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তির মধ্যেও ইরানকে মাঠে নামতে হয়েছে। বিমানযাত্রার ধকল, অনুশীলনের সীমাবদ্ধতা এবং মানসিক চাপ-সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
সব মিলিয়ে নকআউটে না পৌঁছালেও ইরানের এই বিশ্বকাপ অভিযানকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা কঠিন। প্রতিকূলতার মাঝেও অপরাজিত থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করা তাদের জন্য এক ধরনের অর্জন হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
কেএম