দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা এবং আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন আজ (২৪ জুন, ২০২৬)।
১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। ৩৮ বছর পূর্ণ করে আজ তিনি ৩৯ বছরে পা রাখলেন।
মেসির এই বিশেষ দিনটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত, সতীর্থ এবং সাবেক তারকারা শুভেচ্ছা বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন তাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এখন শুধুই মেসির বন্দনায় মুখর। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠ মাতাচ্ছেন এলএমটেন। ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসেও সবুজ গালিচায় তার পায়ের জাদু এবং ড্রিবলিংয়ের ধার বিন্দুমাত্র কমেনি।
২৪ জুনকে বিশ্ব ফুটবলের এক স্মরণীয় দিন বলা যায়। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক শিশু, যার কারণে পরবর্তীতে ফুটবলের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আজ তিনি পা দিলেন জীবনের ৩৯তম বসন্তে।
৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে রাজত্ব করছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে। রোজারিওতে জন্ম নিয়ে এখন তিনি বিশ্বজয়ের মহাকাব্য লিখে চলেছেন।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার রূপকথার গল্পকে হার মানাতে যথেষ্ট। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের সমস্যা জয় করে বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে যোগ দেন। তারপর একের পর এক প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে কিংবদন্তির কাতারে তিনি। বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে শুরু, আজ ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর নিখাদ জাদুর সংমিশ্রণে আজ তিনি সেরার আসনে। বার্সেলোনার জার্সিতে সম্ভাব্য সব ক্লাব ট্রফি ও রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। মাঠে নামলেই রেকর্ড, তাকে বলা হয় রেকর্ডের বরপুত্র। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
তবে মেসি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মধুর অধ্যায় তৈরি করেছেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। জীবনের একমাত্র অধরা সাফল্য পেয়ে যান লুসাইল স্টেডিয়ামে। সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে তিনি শুধু আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপই ঘোচাননি, বরং ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান। জন্মদিনের দুই দিন আগে গড়ে ফেললেন বিশ্ব রেকর্ড। ২৮ ম্যাচে রেকর্ড ১৮ গোলে এখন তিনিই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বয়স তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। সাধারণত ফুটবলারদের ক্যারিয়ার ৩০-এর কোঠায় পৌঁছালেই যখন ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম, তখন লিওনেল মেসি আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠছেন। ৩৯ বছরে এসেও মাঠে তার পাসিং অ্যাকুরেসি, ফ্রি-কিক, পুরো মাঠজুড়ে খেলা এবং ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তরুণদের মতোই ঈর্ষণীয়। ইউরোপে রাজত্ব করে আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর শুধু ক্লাব নয়, পুরো দেশের ফুটবলকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছেন। তাকে ঘিরে প্রত্যেক গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের উন্মাদনা সে কথাই বলে।
মেসি যে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তার প্রমাণ চলতি ও আগের বিশ্বকাপে দেখা গেছে। তাকে ঘিরেই যেন আবর্তিত পুরো আর্জেন্টিনা দল। তার দৃঢ় মানসিকতাও অনেকের কাছে দৃষ্টান্ত। বারবার আন্তর্জাতিক ফাইনালে হেরে গিয়েও হাল ছাড়েননি এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছেন।
৩৯তম জন্মদিনের এই শুভ ক্ষণে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা, মেসি যেন আরও কিছুদিন তার পায়ের জাদু দেখিয়ে যান। এই যেমন বিশ্বকাপে একাই আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের সবকটি করলেন। পেলে, ম্যারাডোনার নাম যেভাবে স্মরণ করা হয়, নিঃসন্দেহে সেভাবেই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মেসি বা ‘লা পুলগা ‘। তার জন্মদিনে কৃতজ্ঞতার স্বরেই হয়তো অনেকে বলবেন—শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি, ফুটবল প্রেমীদের আবেগকে প্রতিনিয়ত রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ! চল্লিশেও চলতে থাকুক ফুটবলে আপনার জাদুর ছোঁয়া।
কে