দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপ চলছে, বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী রিয়েল-টাইমে ম্যাচ উপভোগ করছেন। কিন্তু গাজায় বাস্তবতা ভিন্ন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংকটের কারণে অনেককেই ম্যাচ দেখতে হচ্ছে বিলম্বিত সম্প্রচার বা সংক্ষিপ্তসার দেখে।
গাজা সিটির ইয়ারমুক স্টেডিয়ামে অস্থায়ী তাঁবুর সামনে বসে মোবাইল ফোনে আগের রাতের একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখছিলেন ছয় সন্তানের জনক সামিহ তুতা। যুদ্ধের আগে ফুটবল ছিল পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির উপলক্ষ। এখন সেটি হয়ে উঠেছে বিলাসিতা।
সামিহ বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ প্রায়ই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, বিদ্যুৎও থাকে না। কখনো পুরো ম্যাচ দেখার সুযোগ মিললেও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়ে যায়। যুদ্ধের আগের সময়ের সঙ্গে এর কোনো তুলনাই চলে না।’
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনো ভোলেননি তিনি। তখন গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় নিজের বাড়িতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখতেন। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তখন মানুষের জীবনে আনন্দের কিছু মুহূর্ত ছিল।
কিন্তু ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন সামিহ। নিজের বাড়ি ছেড়ে এখন তাঁবুতেই কাটছে জীবন। তার ভাষায়, যুদ্ধ শুধু ফুটবল দেখা কঠিন করে তোলেনি, বিশ্বকাপ ঘিরে আগের উত্তেজনাও কেড়ে নিয়েছে।
তবু ফুটবল এখনো কিছুটা স্বস্তি দেয়। সামিহ বলেন, ‘কখনো কখনো মোবাইলে খেলা দেখে কিছু সময়ের জন্য হলেও যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত জীবনের কষ্ট ভুলে থাকা যায়।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী ইউসুফ আল-নুয়াইজি। পর্তুগালের সমর্থক এই তরুণ বলেন, ‘বিশ্বকাপ দেখা এখন আনন্দের চেয়ে কষ্টসাধ্য কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সম্প্রতি বন্ধুদের নিয়ে একটি ম্যাচ দেখার জন্য দূরের একটি ক্যাফেতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছে জানতে পারেন বিদ্যুৎ না থাকায় সেটি বন্ধ। পরে অন্য জায়গায় খেলা দেখতে পারলেও মাত্র ৪০ মিনিট পর ক্লান্তিতে আর থাকতে পারেননি।
ইউসুফ বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর জীবনের সবকিছু বদলে গেছে। মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একসময় নিজের বাড়িতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করলেও এখন তাঁবুর জীবনে নেই কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময়ের পরিবেশ স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বড় পর্দা, জাতীয় পতাকা, চা-কফি, খাবার আর বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডায় খেলা দেখার আনন্দ ছিল অন্যরকম।’
বিদ্রূপের বিষয় হলো, যে ইয়ারমুক স্টেডিয়ামে তিনি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন, সেটিই একসময় স্থানীয় ফুটবল ম্যাচ দেখার প্রিয় স্থান ছিল।
যুদ্ধের কারণে গাজার অনেক স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা এখন আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনেকগুলো আবার ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইউসুফ জানান, এখনো সুযোগ পেলে খেলা দেখেন, তবে আগের সেই আবেগ আর নেই। সময় কাটানোর জন্যই মূলত ম্যাচ দেখা হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতার পর গাজার মানুষের জীবনের মতো ফুটবলের প্রতি সেই উন্মাদনাও অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
/অ