দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ডার্ক হর্সখ্যাত নেদারল্যান্ডস ও জাপান। একই গ্রুপে রয়েছে সুইডেন ও তিউনিসিয়া। শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে থাকতে হবে।
রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে মাঠে নামবে দুই দল।
কাগজে-কলমে ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও জাপানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নেদারল্যান্ডসকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে। চোটের কারণে দলে নেই কাওরু মিতোমা। এছাড়া তাকুমি মিনামিনো ও অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় জাপানের শক্তি কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপ ও নেশনস লিগে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নেদারল্যান্ডস এবার শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে। এটি তাদের ১২তম বিশ্বকাপ। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি অরেঞ্জরা।
প্রথম লক্ষ্য হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে চাইবে রোনাল্ড কোমানের দল। পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত নেদারল্যান্ডস। সেই ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন কোমান, আর এবার তিনি প্রধান কোচ।
তবে প্রস্তুতি খুব একটা নিখুঁত ছিল না ডাচদের। বাছাইপর্বে প্রত্যাশিত ছন্দ দেখাতে না পারার পর আলজেরিয়ার কাছে হেরে ১০ ম্যাচের অপরাজিত থাকার ধারাও ভেঙেছে। পরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কডি গাকপোর জোড়া পেনাল্টি গোলে জয় পায় তারা।
অন্যদিকে, টানা অষ্টম বিশ্বকাপ খেলতে আসা জাপান এখনও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনোর স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৮ নম্বরে থাকা দলটি দারুণ ছন্দে রয়েছে। তারা টানা ছয়টি প্রীতি ম্যাচ জিতেছে এবং ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকেও হারিয়েছে।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বেও ছিল তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ৫৪ গোল করে এবং মাত্র তিন গোল হজম করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা প্রথম দিকের দলগুলোর একটি ছিল জাপান।
২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল জাপান। এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল ডাচরা।
নেদারল্যান্ডসের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নিতম্বে চোট পেয়েছেন। ফলে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রয়োজন হলে মার্ক ফ্লেকেনকে দেখা যেতে পারে গোলপোস্টের নিচে।
এছাড়া জুরিয়েন টিম্বার, জের্ডি শাউটেন, ম্যাথাইস ডি লিট ও দলের অন্যতম সৃজনশীল খেলোয়াড় জাভি সিমন্স চোটের কারণে দলে নেই। আক্রমণভাগে মেমফিস ডিপাই ও দোনিয়েল মালেন শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন।
জাপানও বিশ্বকাপে এসেছে অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোকে ছাড়াই। চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। কাওরু মিতোমাও দলে নেই। ফলে টাকেফুসা কুবো ও জুনিয়া ইতোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। তারা স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদাকে আক্রমণে সহায়তা করবেন। বাছাইপর্বে এই তিন খেলোয়াড় সরাসরি জড়িত ছিলেন ৩৩টি গোলে।
এমএস/