দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাধারণত স্মরণীয় হয়ে থাকে গোল, জয় কিংবা তারকাদের পারফরম্যান্সে। তবে ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা করে নিল ভিন্ন কারণে। মেক্সিকোর জয়কে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এক ম্যাচে প্রদর্শিত তিনটি লাল কার্ড।
কাকতালীয় হলেও সত্য, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার ১১ জুনের সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ঠিক ১৬ বছর পর আবারও ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা হয়ে গেল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে এবার ফলটা একেবারেই ভিন্ন।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে থাকা দলটি ৬৮ নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বলের দখল ও আক্রমণে ছিল এগিয়ে।
ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের ভুল পাস থেকেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। নিজেদের ডি-বক্সের সামনে সতীর্থ ডিফেন্ডার স্পেফেলো সিথোলের দিকে ছোট পাস দিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। মাঝপথে মেক্সিকোর মার্সেলো লিরা ট্যাকল করে বল কেড়ে নেন এবং তা বাড়িয়ে দেন হুলিয়ান কুইনোনাসের কাছে। সুযোগ পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন কুইনোনাস।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফেরার মতো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় মেক্সিকো। ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন রাউল হিমেনেস। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫তম ম্যাচে এটি ছিল তার ৪৬তম গোল এবং বিশ্বকাপে প্রথম গোল।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায়। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে মেক্সিকোর গুতিয়েরেসকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্পেফেলো সিথোলে।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও আগ্রাসী খেলা বন্ধ করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাদোর মুখে আঘাত করার ঘটনায় ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ডিফেন্ডার জোয়ান। ফলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
তবে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দেরই শাস্তি দেননি উইলটন সাম্পাইয়ো। যোগ করা সময়ে বেপরোয়া ট্যাকলের দায়ে মেক্সিকোর সিজার মন্টেসকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ১৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে।
ফুটবলীয় দিক থেকে খুব বেশি উত্তেজনা ছড়াতে না পারা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অন্য কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন ব্রাজিলের রেফারি উইলটন সাম্পাইয়ো। ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া ৪৪ বছর বয়সী সাম্পাইয়ো মাত্র ১৫ বছর বয়সেই রেফারিংয়ে যুক্ত হন। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিন, কোয়ার্টার ফাইনালসহ চারটি ম্যাচে প্রধান রেফারি ছিলেন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তার দৃঢ় সিদ্ধান্তই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চারটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ঘটেছে দুটি ম্যাচে ১৯৩৮ সালে ব্রাজিল ও চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যকার ম্যাচে এবং ২০০৬ সালে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের উত্তপ্ত লড়াইয়ে। এবার মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে প্রদর্শিত তিনটি লাল কার্ড জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সেই বিরল তালিকায়। এর আগে ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরি-ব্রাজিল, ১৯৯৮ সালে ডেনমার্ক-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া-ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে দেখা গিয়েছিল এক ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাধারণত নতুন গল্পের জন্ম দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে মেক্সিকোর জয় কিংবা দুই গোলের চেয়ে বেশি দিন মনে থাকবে রেফারি উইলটন সাম্পাইয়োর পকেট থেকে বের হওয়া সেই তিনটি লাল কার্ডই।
/অ