দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দারুণ লড়াই করেছে বাংলাদেশও। একপর্যায়ে ম্যাচ চলে এসেছিল হাতের মুঠোয়। তবে শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় হৃদয়ভাঙা হার সঙ্গী হয়েছে টাইগারদের। ফলে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার করা ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৮৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। ৭ রানের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে তাদের সর্বোচ্চ ছিল ৩ উইকেটে ১৫৮ রান।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান পাওয়ার প্লেতেই দলকে এনে দেন ৭২ রান। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করে ফিরলেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন সাইফ।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকারও ভালো শুরু করেছিলেন। তবে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
এরপর সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমনের ৫৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ রান করেন। ইনিংসে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কা। অন্যদিকে সাইফ ৩৩ বলে ৪২ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় পরপর দুই ওভারে এই দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে। ৪ রানের ব্যবধানে তাদের আউট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
এরপর তাওহীদ হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। শামীম হোসেন ও সাকলাইন সজীবও কিছুটা অবদান রাখেন।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। প্রথম তিন বলে আসে ৫ রান। চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন তাওহীদ। কিন্তু শেষ দুই বলে প্রয়োজনীয় দুই ছক্কা আর আসেনি। পঞ্চম বলে চার মারলেও শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ২২ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাট হাতে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন ম্যাট রেনশ। ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। এর মধ্যে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার।
রেনশকে সঙ্গ দেন টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে তারা ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রান করেন ২ চার ও ৪ ছক্কায়।
শুরুর দিকে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। ৪৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। তবে রেনশ-ডেভিড জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাকলাইন সজীব, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।
আগামী ২১ জুন একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। এখন বাংলাদেশের সামনে একমাত্র লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।
এমএস/