দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন, যিনি নিজেকে এক সময় ‘ক্রিকেট সংস্কারক’ বলে দাবি করতেন। আজ অনেকের চোখে রূপ নিয়েছেন সাইফুল ইসলাম একাডেমিক ক্রিকেটের ভয়ঙ্কর এক ‘ডন’-এ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ— মেয়ে কেলেঙ্কারি, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর্থিক দুর্নীতি এবং একাডেমি দখলের মতো ভয়ংকর সব কর্মকাণ্ড।
সময়টা ছিল ২০২০ সাল। খেলাঘর ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ ছিলেন সাইফুল ইসলাম খোকন। কিন্তু একাধিক খেলোয়াড়ের প্রতি অশোভন আচরণ ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে তাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। খেলা চলাকালীন সময়ে মেয়েদের হয়রানি, খারাপ প্রস্তাব, বাচ্চা বউকে ডিভোর্সসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সময় তার ব্যক্তিগত জীবনেও শুরু হয় ভাঙন। পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
চাকরি হারিয়ে দুই মাস বেকার থাকার পর ইফাত মাহমুদ শরীফের পৃষ্ঠপোষকতা ও মনিরুজ্জামান পলাশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে ‘বি.জি.প্রেস ক্রিকেট একাডেমি’। একাডেমির সূচনালগ্নে ইফাতের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জন উদ্যমী তরুণ একাডেমিতে ভর্তি হন। কোচ হিসেবে সাইফুল তখন প্রতিশ্রুতি দেন এই একাডেমিই হবে তাদের স্বপ্ন পূরণের মঞ্চ।
কিন্তু মাত্র ছয় মাস যেতে না যেতেই উন্মোচিত হতে থাকে এক ভয়ংকর বাস্তবতা। সাইফুলের নেতৃত্বে শুরু হয় একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। অভিযোগ উঠেছে, খেলোয়াড় নির্বাচন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয়। বরং পছন্দ-অপছন্দ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক লেনদেনের ভিত্তিতে খেলোয়াড় নির্বাচন করেন তিনি। নির্দিষ্ট অংকের বিনিময়ে বাইরের খেলোয়াড়দের এনে একাডেমির স্থায়ী শিক্ষার্থীদের জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়। এই অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে একাডেমির প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভেঙে পড়ে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একাডেমি থেকে বের করে দেওয়া হয় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে। তাদের অনেকেই হতাশায় ক্রিকেট ছেড়ে দেন। আবার কেউ কেউ সাইফুলের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও ভয়ংকর অভিযোগ— খেলোয়াড়দের মারধর, মানসিকভাবে হেনস্তা এবং অর্থ আত্মসাৎ। একাধিক খেলোয়াড় অভিযোগ করেছেন যে, ঢাকালিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার নাম করে সাইফুল মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি কারও।
একাডেমি হওয়ার কথা ছিল তরুণদের স্বপ্ন গড়ার জায়গা। অথচ সেটিই আজ রূপ নিয়েছে ভয় আর ষড়যন্ত্রের কারখানায়। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও অনেক তরুণ প্রতিভা হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।
আরএ