দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তালহা শাহরিয়ার আইয়ূবের (টিএস আইয়ূব) মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
ঋণখেলাপি হওয়ায় মঙ্গলবার যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসানের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।
ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রিয়াদ হাসান ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এস এম রাইসুল ইসলাম নাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে টিএস আইয়ূবকে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
টিএস আইয়ূব সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
চিঠিতে বলা হয়, সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে নেওয়া ঋণ ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী তাঁকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিআইবি রিপোর্টেও তিনি মন্দজনিত ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈদেশিক রপ্তানি প্রক্রিয়ার কাগজপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে চার্জশিট দিয়েছে। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে করা অর্থঋণ মামলায় আদালত ব্যাংকের পক্ষে ডিক্রি দিয়েছেন। বর্তমানে অর্থজারি মামলা নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি মামলাও বিচারাধীন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় উল্লেখ করে টিএস আইয়ূবের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানায়।
সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারি খাতের অন্তত চারটি ব্যাংকে টিএস আইয়ূবের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা। শুধু ঢাকা ব্যাংকের কাছেই সুদসহ তাঁর দেনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ৭০ কোটি, জনতা ব্যাংকে ১১ কোটি এবং অগ্রণী ব্যাংকে তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টিএস আইয়ূব বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঋণখেলাপি নই। আদালতের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যাংক যদি কোনো চিঠি দিয়ে থাকে, সেটার ব্যাখ্যা ব্যাংকই দিতে পারবে।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘ঢাকা ব্যাংক থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।’
আরএ