দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপজয়ী দুই কিংবদন্তি, লিওনেল মেসি ও জিনেদিন জিদান। মাঠের লড়াইয়ে ২০০৫ প্রথম এবং শেষবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হয়। আর সেই দেখায় জিদানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পায় মেসি। তবে একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়নি কখনো। কারণ, দুইজন খেলতেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলে। একজন কোচ এবং অপরজন খেলোয়াড় হিসেবে। তারপর পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়। এবার একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা গেল তাদের।
বিখ্যাত জার্সি প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদেরকে মুখোমুখি নিয়ে আসে। প্রায় আধ ঘণ্টার সেই ভিডিওতে একে অপরের সম্পর্কে কথা বলেন তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও প্রশংসা পঞ্চমুখ ছিলেন তারা। কথা বলেন জীবন, ফুটবল ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।
ভিডিওর শুরুতেই জিদান বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে আমরা একসঙ্গে খেলতে পারিনি। তবে তোমাকে বল পাস দেওয়ার এটাই সময় (হাসি)। আমি অনেকটা দূর থেকে এসেছি। তবে তোমার সঙ্গে ফুটবল সম্পর্কে কিছু কথা বলতে পারাটা আনন্দদায়ক। কারণ, সবাই এটা শুনতে চায়।’
জবাবে মেসি বলেন, ‘প্রথমত এটা আমার জন্যও আনন্দের। কারণ, আপনি জানেন আমি আপনাকে কতটা শ্রদ্ধা করি। আমাদের একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়নি। তবে কিছুটা একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছি, আপনি একজন কোচ ও আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে। তবে আমি আপনাকে সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করেছি।’
একপর্যায়ে জিদানকে বলা হয় কয়েক শব্দে মেসিকে বর্ণনা করতে। কিন্তু ফরাসি কিংবদন্তি কেবল একটি শব্দই ব্যবহার করলেন। তিনি বললেন, ‘ম্যাজিক (জাদু)। মেসি আর আমি প্রতিদিন একসঙ্গে থাকি না। তাই আজকের দিনটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ, আমি বলতে পারি তাকে কতটা ভালোবাসি এবং আমি মনে করি এটা ম্যাজিক, খাঁটি ম্যাজিক।’
জিদান বলেন, ‘বল রিসিভ করার আগেই সে জানত কী করতে হবে এবং বিশেষ করে আমার জন্য যে কি না ফুটবল বোঝে। আমি প্রায়ই জানতাম তুমি কী করতে চলেছ। জিনিসটা একটি সংযোগের মতো। তবে সে যা করে সেটা দেখার পর আমি বলি, ঠিক এমনটাই হওয়ার ছিল। এটাই তো মানুষ দেখতে চায়। এমন ফুটবলার খুব কমই আছে। কিন্তু কেউই তার মতো নয়।’
অন্যদিকে জিদানকে বর্ণনা করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘তিনি শুধু আমার সামনে বসে আছেন বলে বলছি না। তাকে আমি সবসময়ই বেশ শ্রদ্ধা ও পছন্দ করি। মাদ্রিদে থাকতে তাকে প্রচুর অনুসরণ করেছি আমি এবং তিনি আমাকে প্রচুর ভুগিয়েছেনও। কারণ, আমি বার্সেলোনা থেকে এসেছি। তিনি সবসময়ই একজন ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। সৃজনশীলতা, শিল্প, জাদু- সবকিছুই তার মধ্যে ছিল। আমি বিশ্বাস করি, তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি আছে।’
মেসি আরও বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লেভারকুসেনের বিপক্ষে তিনি বাঁ পায়ে যে গোলটি করেছিলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই গোল দুটো, সেই রুলেট ড্রিবলিং, ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে বাঁ পায়ের সেই গোলটি; আমরা যারা ফুটবল ভালোবাসি তাদের কাছে এসব ছিল উপভোগের। আমিও প্রচুর উপভোগ করেছি। এমনকি এটা আমার জন্য হজম করা কিছুটা কঠিনও ছিল। কারণ আমি একজন বার্সা ভক্ত। তবে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের জার্সি-দেশ এসব দিয়ে বিবেচিত করা হয় না, তারা এরও ঊর্ধ্বে।’
টি