দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
তান্ত্রিক গুরুমা আয়েশার প্রতারণায় নিঃস্ব হাজারও মানুষ। ছদ্মনাম গুরুমা স্মৃতিরাণী। বছরের পর বছর অসহায় মানুষকে জাদুতে বশ করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। বানিয়েছেন কয়েকটি প্রাসাদসম বাড়ি। ভণ্ডামি আর প্রতারণায় হয়েছেন প্রায় শত কোটি টাকার মালিক। দেশের বেদে রাজধানীখ্যাত সাভারের বেদে পল্লীতে আস্তানা গেড়ে প্রতারণা করে আসছেন বছরের পর বছর। মহাপ্রতারণার অনুসন্ধান তুলে ধরছেন ফখরুল ইসলাম।
জাদু তন্ত্রমন্ত্র নিছক মানুষের বিনোদনের উপলক্ষ। কিন্তু এসবকেই কেউ কেউ প্রতারণা ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছেন যুগের পর যুগ। ছবিতে যাকে তন্ত্রমন্ত্র পড়তে দেখা যাচ্ছে, তিনি গুরুমা নামে পরিচিত। স্মৃতিরাণী নাম ধারণ করে চিকিৎসা দেন রোগীদের। বিপদগ্রস্ত মানুষ মুশকিল আসান করতেই ছুটে যান তার কাছে। পাশে তার দ্বিতীয় স্বামী বুলবুল মিয়া। সাভারে বেদে রাজধানীখ্যাত ভাটপাড়ায় বেদে পল্লীতে ছদ্মবেশে দেশ টিভি টিম। বেদে পল্লীতে গুরুমার রয়েছে বিশাল ক্যাডার বাহিনী। তাই আমরা তার চিকিৎসা রহস্য অনুসন্ধানে রোগীর বেশে।
প্রথমে ৩ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে বদ জিনের চালান করে কাজ শুরু করেছে বলে জানায় আমাদের। আরও ৩১ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয় গুরুমা স্মৃতিরাণী। দ্বিতীয় দিনে দেশ টিভি টিম গেলে আরও ৩ হাজার টাকা নেয়। বাকি টাকা জমা দিলেই দেখাবেন জাদুমন্ত্র। সব বিপদ ভস্ম করে দিয়ে সুদূর আমেরিকা ফিরিয়ে আনবেন কাঙিক্ষত ব্যক্তিকে। কিন্তু আমাদের সাজানো গল্পের ছলে তিনিও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতেছেন।
বেদে পল্লীতে খবর নিয়ে জানা যায় এই গুরুমা স্মৃতিরাণীর আসল নাম আয়েশা। সনাতন ধর্মের নাম ধারণ করে মানুষকে ঠকান। এরপর বেদে পল্লীতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায় তথাকথিত গুরুমার প্রতারণার কাহিনী।
বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের আর্থিক অবস্থা বুঝে চিকিসার ফর্দ বাড়ান। বাড়ান টাকার অংকও। কারও কাছ থেকে ১৪ লাখ কারও থেকে ২৪ লাখ বা তারও বেশি টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগ আসে আমাদের হাতে। আবার বেছে বেছে স্বচ্ছল রোগী ধরতে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় রয়েছে তার বেদে দালাল সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমে রোগী আসে তথাকথিত গুরুমার আস্তানায়।
সাধারণ নৌকায় নদীতে বসবাসরত বেদে সম্প্রদায়ের তথাকথিত গুরুমা স্মৃতিরাণী ওরফে আয়েশা মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে এখন প্রায় শত কোটি টাকার মালিক। তার অঢেল সম্পদের খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভাটপাড়ায় তার আস্তানায় গড়ে তোলা ৪ কাঠা জমির ওপর তিনতলা এই বাড়িটির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। একটু সামনে আরও আড়াই কাঠার ওপর তিনতলা এই বিলাসী বাড়ির মূল্য ৪ কোটি টাকা। একই এলাকায় বক্তারপুর ব্রিজ পার হলেই ৫ কাঠা ও ৬ কাঠার আরও দুটি প্লট। যার মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ভাটপাড়ায় আরেকটি ৮ কাঠার প্লটের দামও প্রায় দেড় কোটি টাকা। গুরুমা আয়েশার তথ্যমতে কলকাতায়ও বানিয়েছেন আরেকটি প্রসাদসম বাড়ি। জানা যায় মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণের পরিমাণও হবে আনুমানিক ২০০ ভরি।
সাভার বেদে পল্লীতে গুরুমা স্মৃতিরাণী ওরফে আয়েশা ও তার ক্যাডার বাহিনীর সামনে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব মানুষগুলোও মারধরের ভয়ে সাহস করেন না বেদে পল্লীতে যেতে কিংবা কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে।
এইউ