দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গাজরের আবাদ। তাই উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামই এখন গাজর গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মানুষের কাছে। শুধুমাত্র গাজর চাষ করেই বহু চাষি পাল্টে ফেলেছেন তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থা।
এ অঞ্চলের গাজর দেশের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকার উপরে। মানিকগঞ্জে ভালোমানের হিমাগার স্থাপন ও বিদেশে গাজর রপ্তানি করা গেলে আরও বেশি মুনাফা করা সম্ভব বলে দাবি গাজর চাষি ও এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ, আজিমপুর, চর আজিমপুর, কাংশা, কিটিংচর, মিরিরচর, দশানি, নয়াডাঙ্গি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার চাষি গাজর চাষের সঙ্গে জড়িত।
চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে গাজরের আবাদ হয়েছে। জমি ও আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় সব খরচ মিটিয়ে চাষিদের বিঘা প্রতি মুনাফা হচ্ছে অন্তত ৪০ হাজার থেকে ৬০ টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের গাজর যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই নারী ও পুরুষরা ক্ষেত থেকে গাজর তোলার কাজ করছে। পুরুষরা ক্ষেত থেকে উঠিয়ে গাজরগুলোকে একপাশে রাখছেন। অপরদিকে, একদল নারী শ্রমিক গাজরের উপরে থাকা পাতা আলাদা করছেন। গাজরগুলোকে পাটের বস্তায় ভরে সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য গাড়িতে করে খোলায় (গাজর ধোঁয়ার জায়গা) নেওয়া হয়। খোলায় নেওয়ার পর ছাই দিয়ে ডলে ডলে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। পরে সেগুলো প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে।
সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গাজর চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সিংগাইরের গাজর মানে ভালো ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা আছে। অনেক গাজর হয় আমাদের এলাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি গাজর ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এই গাজর ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুর, নিমশা, শ্যামবাজার, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ি, সিলেট কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়। তবে, এই গাজর সংরক্ষণের জন্য আমাদের এলাকায় ভালো মানের কোনো হিমাগার নেই। আর সরকার যদি এই গাজর বিদেশে রপ্তানি করার জন্য ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এই চাষের সঙ্গে জড়িত সকলেই উপকার পেত। আয় হতো বৈদেশিক মুদ্রা।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আবু মো. এনায়েত উল্লাহ জানান, সিংগাইরের মাটি ও আবহাওয়া গাজর চাষের জন্য অনেক উপযোগী। সাড়ে তিন থেকে চার মাসে গাজরের ফলন আসে বলে সিংগাইরের বিভিন্ন ইউনিয়নে দিন দিন গাজরের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে সাড়ে ৯০০ হেক্টর জমিতে গাজর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। এ বছর প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিকটন গাজর উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের মোট চাহিদার ৪০ ভাগ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকে কৃষক ভাইদের পাশে আছি। তাদের নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। যেহেতু গাজর চাষের সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়িত তাই এই ফসলের সঙ্গে আমরা তাদের সাথি ফসল হিসেবে পেঁপে চাষের পরামর্শ দিচ্ছি। তারা সেই পেঁপে গাছ থেকে মে মাসে ফলন পাওয়া শুরু করবে। এছাড়া সামনের বছর আমাদের লক্ষ্য আরও বেশি পরিমান জমিতে গাজরের আবাদ বৃদ্ধি করা। সেইসঙ্গে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহসহ কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
জেবি