দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ নিউই। বিশ্বের নবম ক্ষুদ্রতম এই দেশটি বেশ দুর্গম। এর সবচেয়ে কাছের দেশ টোঙ্গা ও সামোয়া। এই দ্বীপ দেশগুলো থেকে নিউইর দূরত্ব কয়েকশ’ কিলোমিটার। ছোট দ্বীপ দেশটির মানুষদেরকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার একমাত্র মাধ্যম ইন্টারন্টে।
১৯৯০ দশকের শেষ দিকে একজন মার্কিন ব্যবসায়ী নিউইকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। দেশটির যেকোনো ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের ঠিকানার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ডট এনইউ (.nu) সাফিক্স। তবে, সেই সাফিক্সের নিয়ন্ত্রণ চান সেই ব্যবসায়ী। বিষয়টি মেনে নেন তৎকালীন নিউই কর্তৃপক্ষ। তবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। সাফিক্সের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অবশেষে দুই দশক পরে নিষ্পত্তির কাছাকাছিতে এসেছে বিষয়টি।
১০০ স্কয়ার মাইলের নিউই দ্বীপ রাষ্ট্রটি মূলত সামুদ্রিক ‘কোরালে’ সৃষ্ট। এর অর্থনীতি খুবই ছোট। তবে, ইন্টারনেটের টপ লেভেল ডোমেইন ডট এনইউ বিক্রি করে তাদের আয় অনেক। এছাড়া জয়েন্ট ভেঞ্চার, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সহায়তা, কৃষি ও পর্যটনশিল্প নিউইর অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।
ডোমেইন নিয়ে ঝামেলা নতুন কিছু নয়। ইন্টারনেট যুগ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মতবিরোধ কমাতে চাপও দিয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে বিরোধ শেষও হয়েছে।
বর্তমানে এনইউ ডোমেইন অতি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। সুইডিশ, ড্যানিশ ও ডাচসহ কয়েক হাজার স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রার করেছে এনইউ ডোমেইনে।
ডট নিউই ডোমেইন নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী সেমিচের সঙ্গে ২০০০ সালে চুক্তি বাতিল করে নিউই সরকার। ওই সময় ডোমেইনটি নিজেদের দাবি করে তারা যা বর্তমানে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সুইডিশ ইন্টারনেট ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত। ডোমেইন নিয়ে সুইডিশ প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৩ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়া নিউই।
ডোমেইনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি গিয়ে ঠেকেছে সুইডিশ আদালতে। গত সপ্তাহে স্টকহোমের একজন বিচারক নিউইয়ের যুক্তি শোনেন। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এ নিয়ে রায় দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা হোগান লোভেলসের ডেভিড টেইলর বলেন- ‘মামলাটি ইউনিক ও জটিল।’
নিউইয়ের নেতাদের কাছে বিষয়টি বর্তমানে আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই। নিউই স্ব-শাসিত হলেও নিউজিল্যান্ডের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। দু’দেশের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে।
রাজধানী আলফি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিউইয়ের প্রেসিডেন্ট ডালটন টাগেলাগি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতার শিকার। ডোমেইন ডট এনইউ (.nu) একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিউইকে স্বীকৃতি দেয়। এটি আমাদের পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
নিউইয়ের এই দাবির সমালোচনাকারীর সংখ্যাও কম না। সমালোচকরা বলছেন, সাইবার ওয়ার্ল্ডে সার্বভৌমত্ব বলতে কিছুই নেই। শুধুমাত্র প্রশাসনিক অঞ্চল যা ওয়েবকে ডট এনইউ এর মতো ডোমেইনে বিভক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ বলা চলে নিউজিল্যান্ডের জন্য নির্ধারিত ডট এনজেড সাফিক্স।
টাগেলাগি বলেন, এই মামলার জয় নিউইকে দীর্ঘমেয়াদে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করবে। ১৯৬০ দশকে দেশটিতে যত জনসংখ্যা ছিল বর্তমানে তা কমে এক তৃতীয়াংশে ঠেকেছে। অর্থের জন্য অনেকে দেশ ছেড়ে গেছে। সেই ফাঁকা বাড়িগুলো সেই লোকদের স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বিজয় আমাদের জাতিসংঘে যুক্ত হওয়ার অর্থায়নে সহায়তা করবে।
ডোমেইন নিয়ে কাজ করা সংস্থা পার ব্রুমার্কের তথ্যমতে, মামলায় জয়ী হলে ডোমেইন থেকে প্রতিবছর ২০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে নিউই।
মার্কিন ব্যবসায়ী সেমিচ বারবার নিউইয়ের দাবি অস্বীকার করেছেন। ২০১৩ সালে তার কোম্পানি ইন্টারনেট ইউজার সোসাইটি ডট এনইউ সুইডিশ ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করার জন্য একটি চুক্তি করে। এরপরেই মামলা করে নিউই।
সুইডিশ ইন্টারনেট ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিকে তিল্লা নিউইয়ের এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, ‘ডোমেইনটি সুইডিশ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস