দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২২ এর জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ দশমিক ২ বছর। সেদিক বিবেচনা করলে, ত্রিশের পর একজন নারী তার জীবনের মাঝামাঝি পর্যায়ে উপনীত হন। এ সময় কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। তাই এতো ব্যস্ততায় নিজের পরিপূর্ণ যত্ন, খাওয়া-দাওয়া কোনটাই ঠিকভাবে হয় না। তাই স্বাভাবিকভাবে তার শরীরের পুষ্টির চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়।
অথচ এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একে তো এটা প্রজননের বয়স। তারমধ্যে ডায়াবেটিস, প্রেশার, থাইরয়েডের মতো সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এ ছাড়া, এসময় নিজের প্রতি যত্নশীল না হলে পরবর্তীতে বার্ধক্য জনিত সমস্যাগুলো প্রকট হতে পারে। তাই নারীর বয়স ত্রিশ হলেই নিজের প্রতি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বয়স ত্রিশ হলে কোন ধরণের খাবার বেশি খেতে হবে:
এই বয়সে অনেক নারীই ক্লান্ত বোধ করেন। যদিও এর কিছু কারণ আছে। তবে, এমন হলে সবার আগে নিজের খাবারের প্রতি নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ দূর করতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশ উপকারি।
তাই বয়স ত্রিশ পার হলে নারীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে, যেমন: কলিজা, ডার্ক চকলেট, ছোলা, পালংশাক ও সেদ্ধ আলুর মতো খাবারে আয়রন পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
হাড় ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এটি কেবল হাড়কে শক্তিশালী করতে নয়। বরং শরীরের সামগ্রিক শক্তি, পেশীর শিথিলতা এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে নারীর সুস্থতার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে, যেমন: কাজুবাদাম, ব্রোকলি, দুধ, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, পনির, ঝোলা গুড়ের মতো খাবারে ভরপুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকে।
নিয়মিত ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি। এটি আপনার সুস্থতার জন্য বেশ কার্যকরী। বিশেষ করে হার্টের স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আখরোট, স্যামন মাছ, তিসির বীজ, চিয়া বীজ ও ক্যানোলা তেলের মতো খাবারে ওমেগা ৩ রয়েছে।
নারীর সুস্থতার জন্য ফোলেট যুক্ত খাবার কার্যকরী। ফোলেট এমন একটি ভিটামিন, যা আপনাকে সুস্থতার পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে নতুন মায়েদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর জন্য ঢেঁড়স, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাদাম ও সাইট্রাস ফ্রুটের মতো খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এসব খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট রয়েছে।
ভিটামিন ডি নারীর হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে এটি মন ভালো রাখতেও কার্যকরী। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
তাই ত্রিশের পর নিয়মিত ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেতে হবে, যেমন: স্যামন মাছ, ডিম, কমলা, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে ভিটামিন ডি ভরপুর মাত্রায় থাকে।
এইগুলো মেনে চলার পাশাপাশি অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। একইসঙ্গে তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়ম নীতি মেনে চলা উচিত।
এস