দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খজুরের রস সংগ্রহ ও রস থেকে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমী গাছিরা।
শীতের ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য শীতের আগমনের শুরু থেকেই খজুর রস সংগ্রহে মেতে উঠে তারা। বেড়েছে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর। তেমনি রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে রেললাইনের দুই পাশে মালিকবিহীন হাজারও খেজুরের গাছ বর্তমানে অর্থ উপার্যনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, বদরগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকায় রেল লাইনের দুই পাশে থাকা মালিকবিহীন হাজার হাজার খেজুরের গাছ। সেই গাছকে পরিচর্যা করে খেজুরের রস ও গুড় তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন রাজশাহী থেকে আসা গাছিরা।
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য শীত শুরু হওয়ার এক মাসে আগেই এই এলাকায় আসেন গাছিরা। তারা ফাঁকা নির্জন জায়গায় বসবাসের মতো একটি ঘর নির্মাণ করে সেখান থেকে খেজুর গাছগুলো পরিচর্যা শুরু করেন।
বর্তমানে সেই গাছ থেকে তারা দৈনিক দুই থেকে আড়াই শত লিটার রস নামান। সেই রস জাল দিয়ে গুড়ে রুপান্তর করে বিক্রয় শুরু করেছেন। প্রতি কেজি গুড় দুইশ টাকা ও রস প্রতি গ্লাস ২০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন তারা। এই অঞ্চলে খেজুরের তেমন কোনো বাগান বা চাষি নেই।
ফলে এখানকার মানুষ খেজুরের গুড় তৈরি দেখতে অভস্থ্য নয়। তাই প্রথমবারের মতো গাছিদের খেজুর গুড় তৈরি করা দেখতে ভিড় করছেন সববয়সী মানুষ। এদিকে প্রতিদিন গাছ থেকে রসের হাড়ি চুরি হওয়ায় বিপাকে আছেন গাছিরা।
খেজুরের রস খেতে ও খেজুরের গুড় তৈরি দেখতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণত আখ চাষ করে থাকি এবং আখের গুড় তৈরি দেখেছি। আমাদের এই অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো খেজুরের বাগান নাই বললেই চলে। তবে অনেক বছর আগে স্থানীয়রা রেললাইনের দুই পাশে খেজুরের গাছ লাগিয়েছিল। যার সুফল বর্তমানে আমরা পাচ্ছি।
খেজুরের রস ও গুড় বিক্রেতা গাছি রেজাউল ইসলাম জানান, আমরা প্রতিবছর রাজশাহী নাটোর থেকে দলবেঁধে রস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই এলাকায় আসি। আমরা এই পরিত্যক্ত গাছগুলোকে যত্ন সহকারে পরিষ্কার করে রস আসার মতো উপযোগী করে তুলি।
তিনি আরও বলেন, একটি খেজুর গাছ আট থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। প্রতিবছর তিন থেকে চার মাস খেজুর গাছ থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করা যায়। যতো বেশি শীত পড়বে ততো বেশি মিষ্টি রস পওয়া যাবে। আমরা প্রতিদিন সংগ্রহ করা রস জাল দিয়ে পাঠালি ও বাটি গুড় তৈরি করে থাকি। যা বর্তমান বাজারে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে।
জেবি