দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বন্যপ্রাণী পাচার বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বন বিভাগের লোকবল সংকট থাকায় কোনোভাবেই এই পাচার রোধ করা যাচ্ছে না। এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতীর বন্যপ্রাণী। বন বিভাগ বলছে যেসব বন্যপ্রাণী পাচার হয়েছে তা আটক করার সম্ভব হয়েছে। তবে মূলহোতা দেশি-বিদেশি পাচারকারি চক্রটি সব সময়ই রয়ে গেছে অধরা।
দেশের বিলুপ্ত প্রায় চশমা পড়া বানর, মুখপোড়া হনুমান বিচরণ দেখা যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে একটি চশমা পড়া বানর ও মুখপোড়া হনুমান পাচারকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এভাবেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময়ে অস্তিত্ব সংকটে থাকা বন্যপ্রাণী পাচারের সময় আটক হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,লাউয়াছড়ায় খাদ্যসংকটে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে বিভিন্ন সময় আটক হলেও এদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।
স্ট্যান্ড ফোর ওয়ার এন্ডেঞ্জার্ড ওয়াইলডলাইফ ফাউন্ডার সোহেল শ্যাম বলেন, বনাঞ্চল থেকে অব্যাহতভাবে বন্যপ্রাণী পাচার হতে থাকলে অতি বিপন্ন বন্যপ্রাণীগুলো একসময় হারিয়ে যাবে আমাদের প্রকৃতি থেকে।
একদিকে যেমন বন্যপ্রাণী পাচার হচ্ছে অন্যদিকে বন থেকে ধরে নিয়ে টাকার বিনিময়ে প্রদর্শণ করা হয়। এগুলো বন্ধ করার জন্য সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার দাবি করেন। লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারের ওয়াইল্ড লাইফ জুনিয়র স্কাউট যিশু বড়ুয়া বলেন, দেশে একমাত্র লাউয়াছড়া উদ্যানে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির উল্লুক রয়েছে। ঢাকা থেকে ক্রাইম কন্ট্রোল একটা চশমা পড়া হনুমান ও মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া আরও একটি উল্লুখ বিদেশে পাচার সময়ে কুমিল্লার ভারত সীমান্ত থেকে আরেকটি চট্রগ্রামে উদ্ধার করেছে র্যাব। রেসকিউ সেন্টারের এদের চিকিৎসা করা হচ্ছে।
লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক আহমদ মানিক বলেন, একটি সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে কিছু বন্যপ্রাণীকে বন থেকে যেকোনোভাবে বের করে নেওয়ার পাশাপাশি পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। ইতিমধ্যে চারটি বন্যপ্রাণী ধরা পড়েছে। আগামীতে যাতে কোনো বন্যপ্রাণী বন থেকে বের করে নিতে পারে না সেজন্য কাজ করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল বিটের রেঞ্জার বলেন, পাচারকালে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলোকে রেসকিউ সেন্টারে পরিচর্চা করে আবার বনে অবমুক্ত করা হবে। আর পাচারকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পাচারকারিরা অভিনব পন্থা অবলম্বন করে থাকে। আর এসব বিষয়ে আমরা যখনই খবর পাই তখনি আমাদের বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে আটক করার চেষ্টা করি।
আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে অবৈধ বন্যপ্রাণীর যে ব্যবসা হচ্ছে তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঢাকা। যেখানে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ বন্যপ্রাণী কেনাবেচা হয়। আর বছরে সারাদেশে এই কেনাবেচা টাকার অঙ্কে তিনশ কোটি টাকারও বেশি।
জেবি