দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সংক্ষেপে ইইউ। ইউরোপের ২৭টি দেশ এ সংস্থার সদস্য। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ইইউতে রয়েছে সবগুলো দেশের অংশগ্রহণের একটি আর্থিক বাজেট। সমন্বিত এ বাজেট ব্যবস্থার নাম ইইউ বাজেট। ইইউ বাজেট মূলত একটি বিনিয়োগধর্মী বাজেট। ইউরোপের প্রতিটি দেশ থেকে এই সমন্বিত বাজেটের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ইউরোপের প্রতিটি দেশের বার্ষিক বাজেটের পরিপূরকও মনে করা হয় এ বাজেটকে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এ বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দীর্ঘমেয়াদি বাজেট। দীর্ঘমেয়াদি বাজেটে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়। সর্বশেষ সম্পন্ন হওয়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত, ৭ বছর মেয়াদি বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৮ বিলিয়ন বা ১.০৮ ট্রিলিয়ন ইউরো। এটা ছিল ইইউভুক্ত দেশগুলোর সেসময়ের মোট আয় বা গ্রোস ন্যাশনাল ইনকাম (জিএনআই) এর ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বর্তমানে চলমান ২০২১ থেকে ২০২৭ সাল মেয়াদি ইইউ এর দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের আকার ১ হাজার ৭ বিলিয়ন বা ১.০৭ ট্রিলিয়ন ইউরো। এ বাজেটকে কয়েক বছরের অর্থনৈতিক কাঠামো বা মাল্টিএনুয়াল ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক (এমএফএফ) বলা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এমএফএফ প্রথম গ্রহণ করা ১৯৮৮ সালে। শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটের বেশিরভাগ অর্থ খরচ হতো শুধুমাত্র কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে। ২০০০ সালের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত হয় নতুন ১৩টি দেশ। এরপর এ বাজেটের কর্মক্ষেত্র বাড়ানো হয়। কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে ইউরোপের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা বা ইউরোপিয়ান ফান্ড ফর স্ট্রাটেজিক ইনভেস্টমেন্টস (ইএফএসআই) বা জ্যাংকার প্ল্যান নামে বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইইউ।
২০১৪ থেকে ২০২০ মেয়াদি বাজেটের ৩৯ শতাংশ খরচ হয়েছিল কৃষিতে আর ৩৪ শতাংশ খরচ হয় আঞ্চলিক উন্নয়নে। এ বাজেটের অন্যতম দিক ছিল খরচ কমানো বা আলোচিত ব্যয় সংকোচন নীতি। ইইউ বাজেট পাস করা হয় ফ্রান্সের স্ট্রসবুর্গে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম আইনসভা ইউরোপীয় পার্লাামেন্টের মাধ্যমে। দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা বার্ষিক বাজেট প্রস্তাব করা হয় প্রতি বছরের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এর এক মাসের মধ্যে বাজেট পাস করার নিয়ম রয়েছে। বাজেটের অর্থের উৎসের মধ্যে রয়েছে ইউরোপের বাইরে থেকে কোনো পণ্য ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করলে সেই পণ্যের ওপর করারোপ এবং ইইউভুক্ত প্রতিটি দেশ থেকে প্রাপ্ত দেশগুলোর জিএনআই এর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ।
এ কারণে বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে এ বাজেটের জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। যেখানে ছোট অর্থনীতির দেশগুলো থেকে বরাদ্দের পরিমাণ হয় কম। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ব্রিটেন। ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের সেই চুক্তি আলোচিত হয় ব্রিটেন অ্যান্ড এক্সিট বা ব্রেক্সিট নামে। ইইউ থেকে বের হওয়ার আগে ইইউ বাজেটের সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া দেশগুলোর একটি ছিল যুক্তরাজ্য।
২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ১৬৬ বিলিয়ন ইউরোর বাজেটের মধ্যে জার্মানি সর্বোচ্চ ৩৩ বিলিয়ন ইউরো অর্থ দেয়। সর্বোচ্চ বরাদ্দের দিকে ওই বাজেটে ফ্রান্সের বরাদ্দ ছিল ২৬ বিলিয়ন, ইতালির বরাদ্দ ছিল ১৮ বিলিয়ন এবং স্পেনের বরাদ্দ ছিল ১২ বিলিয়ন ইউরো। আর সবচেয়ে কম অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা। মাল্টার অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইইউ বাজেটের জন্য আরও যেসব দেশ বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক ও আয়ারল্যান্ড।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর গড় আয়ের তুলনায় সংস্থাভুক্ত যেসব দেশের গড় আয় ১০ শতাংশ কম, সেসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় হয় এ অর্থের একটা বড় অংশ। বাজেটের বেশিরভাগ অর্থ যেসব দেশ পেয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, বুলগেরিয়া, লুক্সেমবার্গ, হাঙ্গেরী, গ্রিস, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, চেক রিপাবলিক, স্লোভাকিয়া, মাল্টা, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, স্লোভেনিয়া এবং সাইপ্রাস। বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ থাকে ইউরোপের সামগ্রিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে।
এইউ