দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনাজপুরে মহারাজার আমলে তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল আজ ধ্বংসের মুখে। বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি সরবরাহের এ ব্যবস্থাটি অযত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষেরও কাছে নেই ধ্বংসের কারণের সঠিক তথ্য। কয়টি টিকে রয়েছে তাও তারা জানে না। এদিকে বিউটিফুল দিনাজপুর নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ এগিয়ে এসেছে ঢোপকল রক্ষার সামাজিক আন্দোলনে।
এবারের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন অতিষ্ঠ দিনাজপুরবাসী তখন ঢোপকলের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। ঠাণ্ডা, সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানির এ জলাধার একসময় শহরের মোড়ে মোড়ে থাকলেও এখন বিলুপ্ত প্রায়। ১৯৪০ সালে দিনাজপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান মহারাজা গিরিজানাথ রায় বাহাদুর ২৫ থেকে ৩০টি ঢোপকল স্থাপন করেন।
শক্ত ঢালাইয়ে তৈরি এসব ঢোপকল ছিল প্রচণ্ড মজবুত। এর নির্মাণশৈলির কারণে পৌরসভার লাইনের পানি থাকতো বিশুদ্ধ ও গরমেও ঠাণ্ডা। ৭০ এর দশকে পৌর চেয়ারম্যান ডা. হাফিজউদ্দিন এগুলোর সংস্কার করেন। এরপর থেকে অবহেলা অযত্ন ও শহরের উন্নয়নের নামে এসব ধ্বংস করা হয়। বর্তমান প্রজন্মের কোনো ধারণা নেই এই ঢোপকল সম্পর্কে। আর পুরনোদের কাছে এসব অতীত স্মৃতির অংশমাত্র। বর্তমানে কোনমতে দাঁড়িয়ে আঠে ৪-৫ টি ঢোপকল। সচল আছে মাত্র দুটি ঢোপকল। ঘাসি পাড়া ডাব গাছ মসজিদ এলাকায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঢোপকল।
স্থানীয় দুই কিশোর রাসেল ও সুমনকে জিজ্ঞেস করা হয় এটি সম্পর্কে। কিন্তু তাদের ন্যূনতম ধারণা নেই। স্থানীয় আরেক মধ্যবয়সী ব্যক্তি ফরিদুল ইসলাম জানান ছেলেবেলায় এই ঢোপকলে বন্ধুরা মিলে গরমে গোসল করতেন, পানিয়ে ছিটিয়ে লাফালাফিও করেছেন। কিন্তু সেসব স্মৃতি এখন। ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এটি এখন অকেজো দেখছেন।
ইজিবাইকচালক রফিকুল জানান, সড়কে চলতি পথে ঢোপকল দেখেন ৪-৫ টি। তবে সচল দেখেছেন বুটিবাবুর মোড় ও লালবাগ মসজিদের সামনে। গরমে তৃষ্ণায় প্রায়ই সুযোগ পেলে সেখান থেকে পানি পান করেন তিনি।
দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সফিকুল হক ছুটু বলেন, শুধু ঢোপকলই নয়, রাজার আমলে বসানো হয়েছিল বেশকিছু টিউবওয়েলও। সেগুলোর এখন অস্তিত্বই নেই। ঢোপকলগুলোকে সচল করার পাশাপাশি পথচারি ও শহরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন বিশুদ্ধ পানির উৎস তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডেরর সাবেক কাউন্সিলর ফয়সল হাবীব সুমন।
এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে না আসলেও ফেসবুক গ্রুপ বিউটিফুল দিনাজপুর এসব ঢোপকল রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন নিয়ে এগিয়ে এসেছে। একসময়ের আবর্জনায় ঢেকে থাকা এসব জলাধারকে সংস্কার করে নান্দনিক রুপ দিচ্ছে তারা।
পরপর ১৩ বছর ধরে হয়ে আসা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমও জানেন না এসব ঢোপকলের বর্তমান অবস্থা। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া দিনাজপুর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে বিশ্ব ব্যাংক।
বাংলাদেশের মাত্র দুটি জেলায় ঢোপকল নির্মাণ করা হয়েছিল। দিনাজপুরের আগে ১৯৩৭ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজশাহী শহরে ঢোপকল নির্মাণ করা হয়।
জেবি