দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বের সবচেয়ে দামি যুদ্ধবিমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন এফ-৩৫। প্রতি ঘণ্টায় ৭৬১ মাইল গতিতে শব্দের চেয়েও দ্রুত বা সুপারসনিক এ যুদ্ধবিমানটির মূল্য ১৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ যুদ্ধবিমান পরিচালনার খরচও বেশি। এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি ও এফ-৩৫সি এই তিনটি ধরন রয়েছে লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ বিমানের। এরমধ্যে স্বল্প পরিসরে উড্ডয়ন এবং উলম্ব অবতরণ করার বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা এফ-৩৫ বি সবচেয়ে দামি। ব্রিটিশ বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিএই এবং মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নর্থরুপ গ্রুপম্যানকে সঙ্গে নিয়ে এ বিমান তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা লকহিড মার্টিন করপোরেশন।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি যুদ্ধবিমানের তালিকায় দ্বিতীয় যে বিমানটি রয়েছে তার নাম এফ-২২ র্যাপটর। এটিও তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। এ যুদ্ধবিমানের দাম ১৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৫ম প্রজন্ম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকা এ বিমান সব ধরনের আবহাওয়াতে উড়তে পারে। বিমানে আসনসংখ্যা ১টি এবং ইঞ্জিন রয়েছে ২টি। এফ-২২ র্যাপটর বিমানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্যান্য বিমান চাইলেও এ বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে না। কারণ এ বিমানে রয়েছে প্রতিপক্ষের রাডার ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার স্টেলথ প্রযুক্তি।

দামি যুদ্ধবিমান হিসেবে ৩য় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের ইউরোফাইটার টাইফুন। এ যুদ্ধবিমানের দাম ১২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আঞ্চলিক জোটগত সুবিধার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ এ বিমান কিনতে পারে মাত্র ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিমানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সঙ্গে রয়েছে উচ্চক্ষমতার আকাশ পর্যবেক্ষণের রাডার নিউ অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক অ্যাওয়ে (এইএসএ)। এ প্রযুক্তির সাহায্যে আকাশের ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনেকটা নির্ভুলভাবে যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে ইউরোফাইটার টাইফুন।

ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-১৫ইএক্স স্ট্রাইক ঈগল দামের দিকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধবিমানের দাম ১১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরিচালনাগত খরচের দিকে এ বিমানটি ৫ম প্রজন্মের যেকোনো বিমানের চেয়ে সাশ্রয়ী। স্ট্রাইক ঈগল ওড়াতে প্রতি ঘণ্টায় খরচ হয় ২৯ হাজার মার্কিন ডলার, যা মার্কিন ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় খরচের তিন ভাগের এক ভাগ।

ফ্রান্সের ডেসল্ট এভিয়েশনের তৈরি বিমান ডেসল্ট রাফায়েল। পৃথিবীতে ৫ম দামি যুদ্ধবিমান। ঘণ্টায় ১ হাজার ৯১২ কিলোমিটার গতিতে চলা ডেসল্ট রাফায়েলের দাম ১১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২টি ইঞ্জিন থাকা এ বিমান পরিচালিত হয় তেল এবং বাতাসের মিশ্রণে পরিচালিত টারবো ইঞ্জিন দিয়ে।

চীনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান চেংডু জে-২০। এ যুদ্ধবিমানের দাম ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পৃথিবীর ৬ষ্ঠ দামি এ যুদ্ধবিমানকে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে চীন। ২০১৭ সালে তৈরি হওয়া চেংডু জে-২০ সর্বোচ্চ ২ হাজার ১২৬ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।

সুইডেনের দামি যুদ্ধবিমান সাব জ্যাস ৩৯ গ্রিপেন। এ যুদ্ধবিমানের সর্বাধুনিক সংস্করণ ৩৯ গ্রিপেন-ই এবং ৩৯ গ্রিপেন-এফ। পৃথিবীর ৭ম দামি এ যুদ্ধবিমানটির দাম ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাডার সিস্টেমের আধুনিকায়ন এবং আধুনিক অস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে এ বিমানে। এ বিমানটির নির্মাতা সুইডেনের বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্যাব এবি।

শেনইয়াং এফসি-৩১ চীনের ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। আকাশে আধিপত্য বজায় রাখা, স্থলে হামলা চালাতে চীন এ বিমান ব্যবহার করে। এফসি-৩১ এর দাম ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি পৃথিবীর ৮ম দামি যুদ্ধবিমান। এ বিমানের সঙ্গে স্টেলথ প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।

পৃথিবীর ৯ম দামি যুদ্ধবিমান বোয়িং এফ/এ-১৮। মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক বোয়িং ডিফেন্স, স্পেস অ্যান্ড সিকিউরিটি কোম্পানি বর্তমানে বিমানটি তৈরি করছে। এ বিমানের দাম ৬৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৯৭ সালের আগে এ বিমান তৈরি করত মার্কিন কোম্পানি ম্যাকডোনেল ডগলাস।

এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সর্বাধুনিক সংস্করণ এফ-১৬ ব্লাক ৭০। দামের দিকে এটি ১০ অবস্থানে থাকা যুদ্ধবিমান। দাম ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিমানের সঙ্গে যে প্রযুক্তিগুলো যুক্ত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাতে দেখতে পাওয়ার শক্তি বা নাইট ভিশন এবং একসঙ্গে উড়তে থাকা অন্যান্য বিমানগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করার ক্ষমতা বা শক্তিশালী রাডার সিস্টেম। বর্তমানে এফ-১৬ ৭২ নামে এ বিমানের আরও একটি সংস্করণ রয়েছে।
এইউ