দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেনী নদীতে মিলছে না ইলিশ। তাই অনেক জেলেই তাদের পেশা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। প্রতিদিন নৌকা নিয়ে জেলেরা ফেনী নদী হয়ে মোহনায় গিয়ে জাল ফেলেও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মাছ। মাছ না পাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। পরিবারের খরচ চালাতেও পাচ্ছেন না তারা।
ঋণের টাকায় ট্রলার ভাড়া করে নদীতে মাছ ধরতে যান জেলেরা। মাছ না পাওয়ায় তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
নদী থেকে ঘাটে ফিরে আসা জেলেরা জানান, নৌকাপ্রতি তারা গড়ে ১৫ থেকে ২০ টি ইলিশ পাচ্ছেন। তা বিক্রি করে তারা খরচ তুলতে পারছেন না। নিজদের প্রতিদিনের ব্যয়ও উঠছে না।
গত কয়েক বছর ফেনী নদীর মোহনায় ভালো ইলিশ ধরা পড়লেও বহিরাগত জেলেদের উৎপাতে গত বছর ও এবার (চলতি বছর) তারা ১০ ভাগের একভাগ মাছও ধরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছেন।
জেলেদের অভিযোগ, নদীতে বহিরাগত জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার ফলে মাছের প্রজনন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিনারে আসতে পারছে না মাছ। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, ফেনী নদীতে মাছ শিকার হচ্ছে না। ফেনী নদী ও ছোট ফেনী নদীর অগ্রভাগে মোহনায় ইলিশ শিকার করছেন সন্দ্বীপ, উড়িরচর, চেয়ারম্যান ঘাট, ভোলা, তজুমুদ্দিনের জেলেরা । তারা অগ্রভাবে কারেন্ট জাল ও টিনের জাল দিয়ে বড় ইলিশ ও ঝাটকা ইলিশ মাছ ধরে ফেলছে। ফলে সোনাগাজী এলাকার জেলেরা এখন তেমন মাছ পায় না।
আগে ছোট ও বড় ফেনী নদীর মোহনায় ইলিশ পাওয়া যেত নিয়মিত। মাঝে পরিমাণে কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার আরও কম। জেলেরা যে টাকা ঋণ করে নদীতে মাছ ধরতে যান, সেই টাকা এখন আর উঠে আসছে না। ফলে তাদের ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
জেলেরা জানান, বড় নৌকায় ১০-১২ জন জেলে নিয়ে নদীতে যান মাছ ধরতে। কিন্তু তেমন মাছ না পাওয়ায় তারা হতাশ। এতে তাদের খরচও উঠে না।
বরিশাল অঞ্চলের জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে। তাদের দুই শতাধিক নৌকা সেখানে মাছ ধরছে। সে জালে সব ধরনের মাছের ক্ষতি হচ্ছে। মাছের রেণুও মারা যাচ্ছে। কারেন্ট জাল ও টিনে জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে বড় ফেনী নদীতে মাছ পাওয়া যেত বেশি।
সোনাগাজীর জেলেদের শতাধিক ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার থাকলেও মাছ না পাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি ট্রলার।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, ফেনী নদী ও সাগরে জেলেদের জালে ইলিশসহ অন্য প্রজাতির মাছও ধরা পড়ছে ঠিকই। তবে ইলিশের সংখ্যা কম। কারেন্ট জাল ও বহিরাগত জেলেদের বিরুদ্ধে নদীতে অভিযান চালাতে ইতিমধ্যে একটি কেনা স্পিডবোট কেনা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় যারা ঝাটকা ধরে তাদের ধরতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। আশা করি এর ফলে সোনাগাজীর জেলেরা সুফল পাবে।
জেবি