দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিপন্ন প্রায় মদনা টিয়ার পছন্দের আবাসস্থল শেরপুরের গারো পাহাড় অঞ্চলের পানিহাতা শালবন আবারও ধংসের পায়তারা চলছে। বছর কয়েক আগেও শালবন কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে বৃক্ষ নিধন বন্ধ ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি আবার পানিহাতা গারো পাহাড় অঞ্চলে ‘সেন্ট এন্ডুজ মিশন (সাধু আনিদ্রয়ের চার্চ) কর্তৃপক্ষ ও বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী যোগসাজশে শালবন কাটার উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেসব গাছ কাটা হবে ইতোমধ্যে সে সব গাছ মার্কিং করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পানিহাতা চার্চের পুরোহিত রেভারন্ড চাম্বু ম্রংয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ বনভূমিতে চার্চের ৪১ একর জমি রয়েছে। সেখানে শালবন রয়েছে। এসব শালগাছ কাটার কোনো উদ্যোগ স্থানীয় চার্চ কর্তৃপক্ষ নেয়নি। ঢাকাস্থ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তাদের জানা নেই।
কিন্তু পানিহাতা বনভূমির আওতাভুক্ত ময়মনসিংহের গোপালপুর রেঞ্জ অফিসার সাব্বির জাহাঙ্গীর জানান, পানিহাতা চার্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাছ কাটার জন্য একটি আবেদনপত্র পেয়েছেন। এ ব্যাপারে সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শালবন নিধনের ব্যাপারে শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সভাপতি সুজয় মালাকার ও সম্পাদক শহীদুজ্জামান জানান, পানিহাতা চার্চ এলাকার বনভূমির শালবাগান বিপন্ন প্রায় মদনা টিয়ার আবাসস্থল। তিন চার বছর আগে সেখানে মাত্র কয়েক জোড়া মদনা টিয়া ছিল। তখনও শাল গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাদের প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত হয়।
বর্তমানে ওই শালবনে দুই শতাধিক মদনা টিয়া ছাড়াও পাহাড়ি ময়না, লটকন টিয়াসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। এছাড়া এ বনাঞ্চলে বুনোহাতি, গোড়খোদক শূকর, উড়ুক্কু কাঠবিড়ালিসহ মহাবিপন্ন প্রাণীর দেখা মেলে। তাদের মতে কোনো বনজ গাছ এবং বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত বনভূমি ধংস করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থি। দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সভায় আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞার আইন অনুমোদিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ ‘সেইফ দ্য নেচার বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বনাঞ্চলের গাছ কাটা তো দূরের কথা বাসা-বাড়িতে বনজ গাছ রোপণ করলেও ওটা কাটতে বন বিভাগের অনুমতি লাগে। তাছাড়া পানিহাতা চার্চ কিভাবে ৪১ একর বনভূমির জমি পেল তা অনুসন্ধান করে দেখা দরকার। শেরপুরের প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব শালবন ধংসের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এইউ