দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাচিবিক ও অফিস ব্যবস্থাপনার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে স্কুলবর্জন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রাখা হাজিরা খাতায় সই করা নিয়ে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, তারা প্রিন্সিপালের কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম সাহিন হাজিরা খাতায় সই করতে আসেন। তখন প্রিন্সিপাল বলেন, যে সময়ে এসেছেন সেই সময়ে সই করেন। এতে তিনি প্রচন্ড রেগে যান এবং প্যান্টের চেইন, প্যান্ট খোলাসহ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। তাছাড়া বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান।
জানা গেছে, সাংবাদিকতার পরিচয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিষখোঁচা স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্ত নিয়োগের পর থেকে কখনও তিনি ক্লাস নিতেন না। এছাড়া কলেজে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যেতেন তিনি। ক্লাস না নেওয়া, দীর্ঘদিন কলেজে না আসায় কলেজ প্রশাসন এবার বেশ নড়ে চড়ে বসে। এর ফলে তাকে শোকজও করে।
আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হন জাহাঙ্গীর আলম। শুধু তাই নয়, কলেজের ভেতরে নিজের প্যান্টের চেইন খুলে তার পুরুষাঙ্গ দেখান সেই সঙ্গে করেন বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। এদিকে শিক্ষকের এমন বাজে আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তার স্থায়ী বহিস্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের।
মহিষখোঁচা স্কুলের অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সারওয়ার আলম জানান, জাহাঙ্গীর আলম শাহিন এর আগেও এমন আচরণ করেছেন। অন্য শিক্ষকরাও তার দুর্ব্যবহারের শিকার। জাহাঙ্গীর আলম সব সময় তাদের ভয় দেখিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও মহিষখোঁচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানের আত্মীয় এমন পরিচয় দিয়ে সবাইকে ভয়ভীতি দেখান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকরা আমাকে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট সদরের ঈমানগঞ্জে। তিনি আব্দুস সালাম ও জয়গুন নেছার সন্তান।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম সাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার স্কুলে পাওয়া যায়নি। এর আগে সাংবাদিকতার পরিচয়ে অপকর্ম করার কারণে একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে সাহিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এখানেই শেষ নয় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিজিবির হাতে ধরা পরেন সাহিন। এরপর সেই ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আরএ