দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলা হা-ডু-ডু এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের কাঁচা রাস্তায়, মাঠ, বাগানে বা খোলা স্থানে জমজমাট ও উৎসবমুখর পরিবেশে হতো এ হা-ডু-ডু খেলা। কিন্তু কালের আবর্তে সেই খেলা এখন আর দেখা যায় না। আধুনিক খেলা এবং যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার কাছে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় এ খেলাটি।
এক সময় উৎসব আর বিশেষ দিনে এ খেলার আয়োজন করা হলেও এখন আর কোনো উৎসবে বা বিশেষ দিবসে এ খেলার আয়োজন হয় না বা দেখা মেলে না। তাই নতুন প্রজন্ম এ খেলার কথা ভুলে যেতে বসেছে। তারা কেবল বই-পুস্তকেই জেনে থাকে এ হা-ডু-ডু খেলার কথা। তাই নতুন করে খেলোয়াড়ও তৈরি হচ্ছে না। তবে শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের স্থানীয় যুব সমাজ স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতি বছর বিবাহিত বনাম অবিবাহিত নাম দিয়ে দু’দলের প্রীতি খেলার আয়োজন করে আসছে। এতে স্থানীয় যুব সমাজে বেশ নজর কেড়েছে। এক সময় সারাদেশের মতো শেরপুর অঞ্চলে হা-ডু-ডু খেলার বেশ প্রচলন ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রায়ই বসত জমজমাট হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন। চারদিকে বিরাজ করত আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হা-ডু-ডু খেলার আয়োজনকে ঘিরে গ্রামজুড়ে চলত মাইকিং প্রচার-প্রচারণা। দূর-দুরান্ত, পাড়া-মহল্লা থেকে শত শত মানুষ গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় হা-ডু-ডু খেলা দেখতে আসত। জমজমাট ছিল এ আয়োজন।
রঙিন কাগজ ও পতাকায় সাজানো হতো খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা। খেলা শেষে বিজয়ী দলকে দেওয়া হতো রঙিন বা সাদা কালো টেলিভিশন, রেডিও, চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, স্বর্ণ বা রূপার মেডেলসহ বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পুরস্কার। কিন্তু প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে এখন এ খেলার কদর আর খুব বেশি নেই। আয়োজকরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে খেলার আয়োজন।
তবে শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের বয়ড়া ও কানাশাখলা গ্রামে স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় যুব সমাজ আয়োজন করে আসছে বিবাহিত বনান অবিবাহিত দলের প্রীতি ম্যাচ। বিজয়ী দলকে দেওয়া হয় গরু বা অন্য কোনো উপহার। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কানাসাখলা বাইপাস মোড়ের বল বাড়ি মাঠে আয়োজন করা হয় এমনই একটি প্রীতি ম্যাচের।
দু’দলের দলনেতার নামে নাম দেওয়া হয় মজিবর (বিবাহিত) একাদশ আর সোহেল (অবিবাহিত) একাদশ। এক ঘণ্টার খেলায় বিবাহিতরা বিজয়ী হয়। খেলার আগত দর্শকও বেশ খুশি প্রতি বছর নিয়মিত এ খেলার আয়োজন করায়।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাকে ধরে রাখতে তারা স্বাধীনতার পর থেকে নিয়মিতভাবে এ খেলার আয়োজন করে আসছে। আগামীতে লীগ পদ্ধতি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য এবং খেলার রেফারি মো. নুর ইসলাম জানান, যুব সমাজ যেন বিপথে না যায় সেজন্য এ খেলার আয়োজন।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানায়, গ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা এ হা-ডু-ডু খেলাটি ধরে রাখতে স্থানীয়দের পাশপাশি সরকারি উদ্যোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। তাহলেই টিকে থাকবে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় এ খেলাটি এবং আবারও প্রাণ ফিরে পাবে হা-ডু-ডু।
এইউ