দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গত ৬০ বছরে বাণিজ্যিক বিমানের নকশায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর আধুনিক বিমান বোয়িং সেভেন এইট সেভেন এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের বিমান এ ৩৫০- বিমানের গঠনকাঠামোর সঙ্গে মিল রয়েছে ১৯৫০ সালের দিকে তৈরি হওয়া বোয়িং সেভেন জিরো সেভেন এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডগলাস ডিসি-এইটের।
সাধারণ বিমান থেকে ব্লেনডেড উইং বিমানের সুবিধা হচ্ছে-এই বিমানের পুরো অংশকেই বিমান আকাশের দিকে তুলতে সহায়তা করে। বৈমানিক বিদ্যায় যাকে বলা হয়-লিফট। এ ধরণের বিমানের বাতাসকে ব্যবহারের বেশি সুযোগ থাকায় বিমান পরিচালনায় যান্ত্রিক শব্দ কম হয়। পুরো বিমানই এখানে বিমানের উইং বা পাখার মতো কাজ করে। এজন্য বিমান ওপরে তুলতে শুধুমাত্র পাখার ওপর চাপ বেশি পড়ে না। সাধারণ বিমানে সারফেইস বা বাতাস প্রতিরোধী অংশ কম থাকায় এ ধরণের বিমানকে উপরের দিকে তুলতে বাতাসকে বেশি ধারণ করা যায় না। যার কারণে বিমান উপরে তুলতে ইঞ্জিনের শক্তির ব্যবহার বেশি করতে হয়।
দৈর্ঘ্যে কম হলেও ব্লেনডেড উইং এয়ারক্রাফটের প্রস্থের আয়তন বেশি যা বিমান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় লিফট তৈরি করে। কম ইঞ্জিনশক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ায়- এ বিমানে ইঞ্জিনের আকারও ছোট হয়- যা বিমানটিকে হাল্কা করেছে। লিফট সহায়ক হওয়ায় এবং বিমানের সমুখভাগ সরু হওয়ায় বিমান উড্ডয়নের সময় এবং উর্ধাকাশে বাতাসের প্রতিরোধ বা বিমানকে পেছনের দিকে টেনে ধরা শক্তি বা ড্রাগ কম কাজ করে। গবেষণা বলছে, বিমান ব্লেনডেড উইং এয়ারক্রাফট অন্যান্য বিমানের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম জ্বালানী খরচ করে। এ ধরনের বিমানে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অন্যান্য বিমানের তুলনায় অর্থেক। এসব নানা সুবিধার কারণে বোয়িং এবং এয়ারবাস ব্লেনডেড উইং মডেলের বিমান ফ্লাইটে সংযুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে। মার্কিন বিমান বাহিনী সম্প্রতি ব্লেনডেড উইং বিমান তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বিমান সংস্থা জেট জিরোকে ২৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দিয়েছে। ২০২৭ সালে এ বিমানের প্রথম ফ্লাইট চালু হবে। সাধারণ বিমানে ৩টি ৩টি করে দুইপাশে ৬ আসনের সারি থাকলেও ব্লেনডেড বিমানের ভেতরের পরপর ১৫ থেকে ২০টি আসনের সারি থাকবে।
২০২০ সালে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্লেনডেড উইং বিমান তৈরি করে এয়ারবাস। যদিও এ ধরণের বিমান তৈরির প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯২০ সালে জার্মানিতে। এরপর মার্কিন বিমান নকশাকারী জ্যাক নর্থরপ ১৯৪৭ সালে জেট চালিত ফ্লাইং উইংয়ের নকশা করেন। জ্যাকের নকশাকে অনুকরণ করে ১৯৯০ সালে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম সোভিয়েত আমলের যুদ্ধবিমান বি-২ বিমান তৈরি করা হয়। ২০১২ সালের ৭ আগস্ট এক্স-৪৮ মডেলের ব্লেনডেড উইং বিমানের প্রথম প্রদর্শনী ফ্লাইট পরিচালনা করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
তবে নির্মাণগত কিছু জটিলতার কারণে ব্লেনডেড উইং বিমান তৈরি নিয়ে সংশয় রয়েছে প্রকৌশলীদের মাঝে। প্রচলিত টিউবাকৃতির বিমানগুলোর ভেতরে জায়গা বেশি থাকায় তাপীয় গ্যাসের প্রসারণ এবং সংকোচনে খুব একটি সমস্যা হয় না- যা বিমানকে স্বাভাবিক রাখে। সে তুলনায় ব্লেনডেড উইং বিমানের ভেতর সংকুচিত।
এফএইচ