দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে জুনিয়র নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এ সংশ্লিষ্ট একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মিজানুর রহমান টমাস। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সংস্থাপন শাখায় কর্মরত রয়েছেন।
ফোনালাপে অভিযুক্ত মিজানুর শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে অবৈধভাবে ডাটা এন্ট্রি পদে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তাকে প্রমোশন দেওয়ার কথা বলেন। ১৪ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে মিজানুরকে বলতে শোনা যায়, ওই নারী কর্মকর্তাকে সেকশন অফিসার এবং পরবর্তীতে তাকে আরও উচ্চ পদে প্রমোশনসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেবেন। বিনিময়ে ওই নারী সহকর্মীকে পটুয়াখালীর একটি বাসায় তার সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে হবে।
এসময় তিনি প্রকাশ অযোগ্য কথাবার্তার মাধ্যমে ওই নারী সহকর্মীকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। তবে ওই নারী তার অনৈতিক প্রস্তাব নাকচ করে দেন। পরে কোনো কিছুর বিনিময়ে নারী সহকর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে ওই কর্মকর্তা নিজের ক্ষমতার কথা বলে চাপ প্রয়োগ করেন।
মিজানুর হুমকি দিয়ে ওই নারী সহকর্মীকে বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাডার লাইনে রাজনীতি করেছি, একমাত্র আমার সঙ্গে নাইন এমএম পিস্তল থাকত। এছাড়া পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দুই বার ছিলাম। এসময় তিনি তদবির করে অন্যান্য কর্মকর্তার বদলির উদাহরণ দেন। এরপরও নারী কর্মকর্তা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার প্রতি রাগ করেছেন এবং কষ্ট পেয়েছেন বলে ওই নারীর কাছে ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডেপুটি-রেজিস্ট্রার জানান, একজন জুনিয়র নারী সহকর্মীর প্রতি সিনিয়র কর্মকর্তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনার পর থেকে নারী সহকর্মীরা আতঙ্কে আছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
ফোনালাপে অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান টমাস জানান, তার বিরুদ্ধে একটা অপশক্তি এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা এ কাজ করছে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চান না বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ডক্টর সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ব্যাপারটা তিনি লোকমুখে শুনেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এইউ