দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তরে হিমালয় পর্বত। পশ্চিমে হিন্দুকুশ ও পূর্বে আরাকানি পর্বতমালা। দক্ষিণে ভারত মহাসাগর। এর মধ্যকার অঞ্চলটির ভৌগোলিক পরিচিতি দক্ষিণ এশিয়া হিসেবে। যুগ যুগ ধরে একে ভারতীয় উপমহাদেশ হিসেবেও লেখা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাদেশ এশিয়ার দক্ষিণ অংশে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা- এই ৭টি দেশ নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ গঠিত। ভারতীয় উপমহাদেশভুক্ত না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তান।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগের ১ ভাগ বাস করে ভারতীয় উপমহাদেশে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ঐতিহাসিক নানা কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের আলোচিত দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ভারতীয় উপমহাদেশে মানুষের পদার্পণ প্রথম হয় আনুমানিক ৭৩ থেকে ৫৫ হাজার বছর আগে। ইরান থেকে একটি শিকারি জাতি এ মহাদেশে আগমন করে। তবে এ এলাকায় মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে ৯ হাজার বছর আগে।
যদিও বর্তমানের পাকিস্তান এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ইন্দাস ভ্যালি বা সিন্ধু সভ্যতার বিকাশ শুরু হয় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে। তখন ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘতম খরার কারণে নগর এলাকা থেকে মানুষ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। যে খরা ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লোহিত সাগর এলাকা, আরব উপদ্বীপ এবং উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত। সেসময় মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাসকারী ইন্দো-আর্য জাতিগোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ার পাঞ্জাবে পাড়ি জমায়। পাঞ্জাব থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এ ইন্দো-আর্য জাতি।
২ হাজার ৬০০ বছর আগে এ অঞ্চলে নতুন একটি আন্তঃআঞ্চলিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। তখনই জনপদ এবং এরপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের ধারণা সামনে আসে। আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি দ্বিতীয় সভ্যতার বিকাশ এসময়েই হয়। সেসময়ই জৈন এবং বুদ্ধ ধর্মের সূচনা হয় এ অঞ্চলে। এরপর এ অঞ্চলে হিন্দু ধর্মের উদ্ভব ঘটে। ২ হাজার ৩৫০ বছর আগে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের দক্ষিণ বিহারে মৌর্য সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। মৌর্য সাম্রাজ্যকে বলা হয় পুরোনো ভারতীয়দের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য।

এর ৮০০ বছর পর ৪র্থ শতাব্দীতে ভারতে গুপ্ত সাম্রারাজ্যের বিকাশ ঘটে। ৩১৯ থেকে ৪৬৭ সাল পর্যন্ত সময়ে যখন গুপ্ত সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল তখন ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ এলাকাই এ সাম্রারাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতের ইতিহাসে এ সময়কে বলা হয় সোনালি যুগ। গুপ্ত বংশের রাজা চন্দ্রগুপ্তকে বলা হতো মহারাজাধিরাজ। ৫ম শতাব্দীর সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কালিদাস লিখেছেন- ভারতের ভেতরে এবং বাইরে ২১টি সাম্রারাজ্যকে এক করে বিশাল সাম্রারাজ্য গড়ে তুলেছিলেন গুপ্ত শাসকরা।
গুপ্ত বংশের শাসক সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত এবং কুমারাগুপ্তর সময় ভারতীয় উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিপ্লব ঘটে। তখনই হিন্দু ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য ‘মহাভারত’ এবং ‘রামায়ণ’ সংকলিত হয়। ভারতে প্রযুক্তি, ভাস্কর্য এবং চিত্রাঙ্কন শিল্পের বিকাশও ঘটে গুপ্ত শাসনের সময়। শিল্পকলার বিকাশের ফলে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন সাম্রাজ্য এবং অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এ সময়ই হিন্দু ধর্মের অনুসারী বাড়তে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশে-যেখানে হিন্দুদের উচ্চ বর্ণ ব্রাহ্মণদের প্রভাব বেশি ছিল। চীনের জিনজিয়াং থেকে আসা হুন যোদ্ধাদের আক্রমণ এবং গুপ্তদের নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে ৬ষ্ঠ শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এরপর বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজ্য ভারতকে শাসন করেছে। আফগানিস্তান-তাজিস্তিান-উজবেকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত ঘুরি সাম্রাজ্যের শাসক মোহাম্মদ ঘুরির সেনাপ্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ সালে পূর্ব ভারতে মুসলমানদের জয় নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলা এবং বিহারে তার শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তার সময়ে ভারতে মুসলমানদের আধিপত্য শুরু হয়। এরপর ১৫২৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশকে বিভিন্ন মুসলমান শাসকগণ শাসন করেন যা দিল্লি সালতানাত হিসেবে ইতিহাসখ্যাত।
১৩ শতাব্দীতে পশ্চিম এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়ায় মঙ্গল সাম্রারাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খানের বংশধর বাবর ১৫২৬ সালে ভারতে মুঘল সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। আধুনিক যুগের শুরুটা হয় ১৬০০ শতকে যখন মুঘলরা ভারতের অধিকাংশ এলাকা জয় করে। যেসময় স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যকে রপ্তানিমুখী করে নতুন ধরণের বৈশ্বিক অর্থনীতির সূচনা হয়। মুঘল শাসনামলে ভারতে তাজমহলসহ ঐতিহাসিক নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। ১৭৪৮ সালে মুঘলদের ১৩তম শাসক মোহাম্মদ শাহ-এর শাসনামলে দুর্বল হয়ে পড়ে মুঘল সাম্রাজ্য। এরপর মারাঠা, শিখ, মহীসূর, নিজাম এবং বাংলার নবাবরা ভারতীয় উপমহাদেশের একটা বড় অংশকে শাসন করেন। ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন শুরু করে। ১৯০০ শতকের মাঝামাঝিতে ভারতের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ কোম্পানির অধীনে চলে যায়। ১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মূল ব্যবসা ছিল সুতা, রেশম, নীল, চিনি, লবণ, মশলা, যবক্ষার, চা এবং আফিমের। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের অর্ধেকের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রিটিশ এ কোম্পানিটি। ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা করতে আসে ১৬০৮ সালের ২৪ আগস্ট। ভারতকে বেঙ্গল, মাদ্রাজ এবং বোম্বে-এই তিন প্রদেশে ভাগ করে শাসন করত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। একজন গভর্নর জেনারেল এবং তার অধীনে ৩ জন গর্ভনর শাসনকাজ পরিচালনা করতেন। ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
ব্রিটেনের পুরো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর চেয়েও এ কোম্পানির নিজস্ব সেনাবাহিনীর সৈন্য সংখ্যা বেশি ছিল। কোম্পানি শাসনের সময় ভারতে ব্রিটিশ ঘরানার সামাজিক সংস্কার, উচ্চ হারে জমির খাজনা আদায় এবং ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় কোম্পানি শাসন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় ভারতীয়দের মাঝে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে ধীরে ধীরে।

১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে ভারতীয় সেনারা- যা সিপাহী বিপ্লব নামে পরিচিত। এ বিদ্রোহকে ভারতীয়দের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধও বলা হয়। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ দ্রুত পৌছে যায় দিল্লিতে। মুঘলদের ২০তম এবং শেষ শাসক ৮১ বছরের দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে হিন্দুস্তানের সম্রাট ঘোষণা দেয় বিদ্রোহীরা। যদিও খুব দ্রুতই বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয় ব্রিটিশ বাহিনী। ব্রিটিশ সৈন্যদের গুলিতে এবং বিদ্রোহ পরবর্তী দুর্ভিক্ষে সেসময় অন্তত ৮ লাখ ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। আর ব্রিটিশ বেসামরিক নাগরিকসহ সৈন্য নিহত হয়েছিল ৬ হাজার।
বিদ্রোহের আগে কোম্পানির অধীনের সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩ লাখ। আর ব্রিটিশ সৈন্য সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনী- বোম্বে, মাদ্রাজ এবং বাংলা- এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল । বোম্বে ও মাদ্রাজে সাম্প্রদায়িক নিয়োগ না থাকলেও বাংলায় সৈন্য নিয়োগে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা শুরু হয়। যেখানে আওয়াদ এবং বিহার অঞ্চলের ব্রাহ্মণ, হিন্দু-মুসলিম এবং শিখ ধর্মের অনুসারীর রাজপুত গোত্র এবং বিহারের হিন্দু গোত্র ভূমিহারদের থেকে সেনাবাহিনীতে বেশি নিয়োগ দেওয়া হতো। এমনকি ১৮৫৫ সালে বেঙ্গল সেনাবাহিনীতে নিম্নবর্ণের লোকদের নিয়োগ দেওয়া সীমিত করে দেওয়া হয়। বেঙ্গল শাখায় উচ্চবর্ণের আধিপত্বের কারণে কয়েকটি ছোট ছোট বিবাদের ঘটনাও ঘটে-যা পরিস্থিতিকে সিপাহী বিপ্লবের দিকে নিয়ে যায় বলেও মনে করা হয়।
সিপাহী বিপ্লবের পর ১৮৫৮ সালে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান হয়। এরপর থেকে সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি উপনিবেশ হিসেবে ভারতের শাসন ক্ষমতা পরিচালিত হয়। এরপর ভারতকে ১১টি প্রদেশে ভাগ করে শাসনকাজ পরিচালিত করত ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার।
ব্রিটিশদের শাসনের সময় ১৮৮৫ সালে ভারতের জনগণের মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিক দল-ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস দল প্রতিষ্ঠিত হয়। বোম্বের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে ৭২ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জি। কংগ্রেস দল গড়ে তোলার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখা ব্রিটিশ নাগরিক এলান অক্টোভান হিউমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয়দের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সভা-সমাবেশের অধিকার দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক অপব্যবহার দূর করাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার করা, ভারতীয়দের থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করাসহ সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ সম্পদের দাম বাড়াতে ব্রিটিশ সরকারের নেওয়া নীতির সংস্কার করা, ভারতের জনগণের কল্যাণে আধুনিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করা, লবণের ওপর কর বাদ দেওয়ার অর্থনৈতিক নীতিসহ বেশ কিছু প্রস্তাব পাস করে কংগ্রেস।
১৯১৯ সালে ১৮ মার্চ ব্রিটিশ ভারতের আইনসভা ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বিরোধী রাওলাট আইন পাস করে। যে আইনে বিনা বিচারে গ্রেপ্তার ও বন্দি রাখার আইন পাস হয়। এ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিওয়ানওয়ালাবাগে ১৯১৯ সালের ১৩ মার্চ ব্রিটিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এডওয়ার্ড হেরি ডায়ারের নেতৃত্বে গুলি চালায় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী। ওই ঘটনায় ১৫০০ জন নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৯২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয়দের স্বাধিকারের দাবিতে কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতার পথে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও কংগ্রেসে নেতাদের অধিকাংশই হিন্দু ধর্মের হওয়ায় মুসলমান নেতাদের মাঝে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ ছিল।

১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমাঞ্চল এবং মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাংশকে আলাদা করে বাংলাকে দুই ভাগ করা হয়। এ ভাগের কারণে পূর্ব বাংলায় হিন্দুদের প্রভাব কমে যাওয়ায় হিন্দুদের একটি বড় অংশ এ বিভক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ ভারতে মুসলমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মুসলমানদের আলাদা রাজনৈতিক দল হিসেবে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ গঠিত হয়। ঢাকার চতুর্থ নবাব খাজা সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাবটি করেন।
১৯৩০ সালে মুসলিম লীগ নেতা স্যার মোহাম্মদ ইকবাল ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঞ্জাব, সিন্ধু,খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান এই চারটি প্রদেশ এবং ইসলামাবাদ প্রজাতন্ত্র এবং আজাদ জম্মু এবং কাশ্মির ও গিলগিট বালটিস্তান নিয়ে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের চিন্তাভাবনা করেন। পরবর্তীতে মুসলিম লীগের ১২ বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ আলী এ ধারণাকে এগিয়ে নেন। যদিও মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের নামটি প্রথম ব্যবহার চৌধুরী রহমত আলী। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৩৩ সালের ২৮ জানুয়ারি রহমত আলীর পুস্তিকা নাউ অর নেভার: আর উই টু লিভ অর পেরিশ ফরএভার প্রকাশিত হয়। এই পুস্তিকাতেই প্রথম পাকিস্তান শব্দটি ব্যবহার হয়। যদিও তখন- এই লেখাকে একজন ছাত্রের প্রস্তাব হিসেবে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
১৯৪০ সালের মধ্যে বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়-যে হিন্দু-মুসলিম এক হয়ে যদি একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমরা নানা বৈষম্যের শিকার হবে। জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ১৯৪০ সালের ২২ থেকে ২৪ মার্চ লাহোরে তিনদিনের সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তুলে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় যা-লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত । এ প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলা নিয়ে মুসলমান রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। ভারত-পাকিস্তান এক থাকার সময়ে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বেশ কিছু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনাকে ভারত ভাগ হওয়ার পেছনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। ১৯৪৭ সালে জিন্নাহর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তবে পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে পাকিস্তানের অংশ থাকা পূর্ব পাকিস্তান ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
এইউ