দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রেমের টানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশের জয়পুরহাটে ছুটে এসেছেন আনা মারিয়া ভেলাস্কো নামে এক তরুণী। শুধু তাই নয়, নিজের ধর্ম ও নাম পরিবর্তন করেছেন তিনি। রোববার দুপুরে প্রেমিক আব্দুল্লাহ হেল আমানকে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের সময় ওই তরুণীর নতুন নাম মরিয়ম আমান রাখা হয়।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার যুবক আব্দুল্লাহ হেল আমানের (৩৭) সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ফিলিপাইনের তরুণী মারিয়া ভেলাস্কো (৩৬)। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শনিবার রাতে বাংলাদেশে আসেন মারিয়া। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেমিক আমানের ক্ষেতলাল থানা এলাকার বাসায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নববধূকে দেখতে ওই বাসায় ভিড় করেন এলাকার লোকজন।
মারিয়া ভেলাস্কো দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেছেন। সেখানকার চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। বিয়ের পর তার নাম রাখেন মারিয়া আমান। স্বামী আব্দুল্লাহ হেল আমান ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শারফুল ইসলাম তালুকদারের বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে মারিয়ার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আমানের। প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে করতে শনিবার রাতে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় পৌঁছান মারিয়া।
প্রেমের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে আব্দুল্লাহ হেল আমান বলেন, ২০২০ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়। তখন কিছুটা হতাশ হই। এরপর থেকে ফেসবুকে বেশি সময় কাটাতাম। ২০২১ সালে মারিয়ার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মারিয়া সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত দুই বছর ধরে আমাদের প্রেম চলছিল। সম্প্রতি বিয়ে করার আগ্রহের কথা জানান। তখন বাংলাদেশে চলে আসতে বলি। সেইসঙ্গে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাই। এতে পরিবারের সদস্যরা রাজি হন। শনিবার রাতে সৌদি আরব থেকে মারিয়া ঢাকায় পৌঁছান। রোববার দুপুরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি আমরা।
বিয়ের পর মারিয়া ভেলাস্কো বলেন, নিজের ইচ্ছায় প্রেমের টানে আমানকে বিয়ে করার জন্য বাংলাদেশে এসেছি। তার পরিবারও আমাকে মেনে নিয়েছে। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।
বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন আমানের প্রতিবেশী ও শিক্ষক আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, আমান আমার ছাত্র ছিল। আজ তার প্রেমের ঘটনা জানতে পেরে বাসায় আসি। দুপুরে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ফিলিপাইনের তরুণীর সঙ্গে আমানের বিয়ে দিয়েছি আমরা। এতে কারও কোনো আপত্তি ছিল না।
আমানের মা তেলাল কুসুমশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, ফিলিপাইনের নারী মারিয়া ভেলাস্কোর সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের কথা আগেই বলেছিল আমান। রোববার দুপুরে তাদের বিয়ে দিয়েছি। এতে আমরা সবাই খুশি।
ক্ষেতলাল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে মারিয়া ভেলাস্কোকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমরা। তিনি নিজ ইচ্ছায় বাংলাদেশে এসেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিয়েতে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না।
আরএ