দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অন্যায়কে ইসলাম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না। সে অন্যায় মানুষের প্রতি মানুষের হোক বা প্রাণীর প্রতি। কোনো প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, অবহেলা করা কিংবা হত্যা করা ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক নারীকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে শুধু একটি বিড়ালকে অমানবিকভাবে বন্দি করে রাখার কারণে। রসুলুল্লাহ সা. বলেন, জনৈক মহিলা বিড়ালের কারণে জাহান্নামী হয়েছে। সে বিড়ালটি বেধে রেখেছিলে, না তাকে খাবার দিয়েছে, না তাকে পানি দিয়েছে, আন না তাকে খাবার খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছে। (মুসলিম: ২৬১৯)
সম্প্রতি পাবনার ইশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি কুকুরের আটটি ছানাকে জনৈক মহিলা কর্তৃক পানিতে ডুবিয়ে হত্যার খবর প্রচারিত হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মা কুকুরের অসহায়ত্ব ও বেদনাময় অবস্থার ছবি-ভিডিও সুস্থবিবেকসম্পন্ন মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
এমন নিষ্ঠুর ও অমানবিক কাজ কোনো বিবেকবান মানুষের দ্বারা ঘটতে পারে; এমনটি মানতে সাধারণ জনতা পর্যন্ত কষ্ট পাচ্ছে। কুকুরছানাগুলোর অপরাধ ছিল, তারা মহিলার ঘরের সামনে আওয়াজ করেছিল। কে জানতো এই আওয়াজই তাদের জীবন এভাবে কেড়ে নিবে?
অথচ ইসলামে এমন চিত্রও পাওয়া যায়, যেখানে সামান্য দয়া প্রদর্শনের কারণে একজন পতিতা নারী পর্যন্ত আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম শুধু মানুষই নয়, বরং প্রাণীদের প্রতিও দয়া, করুণা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করে। আল্লাহর রসুল সা.বর্ণনা করেন, এক পতিতা নারী একদিন পথ চলতে চলতে একটি কূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ সে দেখতে পেল, একটি কুকুর কূপের ধারে হাঁফাচ্ছে; চরম তৃষ্ণায় তার জীবন শেষপ্রায়। কুকুরটির অসহায় অবস্থা দেখে নারীর হৃদয়ে করুণা জাগল। কিন্তু তার কাছে পানি তোলার মতো কোনো পাত্র ছিল না।
তখন সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের মোজা খুলে নিল এবং সেটিকে তার ওড়নার সাথে বেঁধে কূপের গভীরে নামাল। বহু কষ্টে পানি তুলে এনে সে কুকুরটিকে পান করাল। প্রাণীটির প্রাণ বাঁচল। আল্লাহ তাআলা এই ক্ষুদ্র অথচ আন্তরিক দয়ার কাজকে এতটাই পছন্দ করলেন যে, ওই নারীর অতীতের গুরুতর পাপ সত্ত্বেও তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারি: ৩৩২১)
এই ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রাণীকেও দয়া করা ইসলামে একটি বড় মহৎ কাজ। এমনকি কোনো খারাপ ব্যক্তির সামান্য মানবিক আচরণও আল্লাহর দরবারে অসীম মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে।
আর যিনি কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা করে, তার জন্য রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। আল্লাহর রসুল সা. সেই ব্যক্তিকে অভিসম্পাত পর্যন্ত দিয়েছেন, যে নাকি হাতের নিশানা পরীক্ষার জন্য অনর্থক একটি চড়ুই পাখিকে লক্ষ্যস্থল বানায়। (মুসলিম: ১৯৫৮)
অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে রক্তচোষা বা প্রাণনাশক প্রাণী ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা হত্যা করা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। শুধু বিরক্তিকর মনে হলো বা আওয়াজ করেছে এসব তুচ্ছ অজুহাতে প্রাণীর জীবন নিয়ে নেওয়া নিষ্ঠুরতা তো বটেই, গুরুতর গোনাহের কাজও বটে।
ইশ্বরদীতে কুকুরছানাগুলোকে নিছক বিরক্তির কারণ দেখিয়ে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা মানবিকতা-বিবর্জিত এবং ইসলামী শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী একটি কাজ হয়েছে। চাইলে ছানাগুলোকে অন্য কোনো নির্জন স্থানে স্থানান্তর করা যেত, কিংবা স্থানীয় পশুপ্রেমী সংগঠন বা প্রাণীকল্যাণ সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে তাদের জিম্মাতেও দিয়ে দেওয়া যেত।
কিন্তু এসব মানবিক ও যুক্তিসঙ্গত পথ পরিহার করে যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা এভাবে অসহায় প্রাণীগুলোকে যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করেছে, তা শুধু আইনগতভাবে দণ্ডনীয়ই নয়, নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সবদিক থেকেই নিন্দনীয়। এমন কাজ মানুষের হৃদয়ের কঠোরতার পরিচায়ক, যা সমাজকে ক্রমে আরও নির্মমতার দিকে ঠেলে দেয়।
কে