দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাছ ধরার নেশাটা যেন পুরোনো কোনো প্রেমের মতো—ব্যস্ততার ভিড়ে দূরে সরে গেলেও মন থেকে কখনো হারিয়ে যায় না। ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় দীর্ঘদিন মাছ ধরায় বিরতি পড়েছিল। বন্ধু ওমর হায়দারের সঙ্গে আলোচনা করে এবার দেশে নয়, বিদেশে গিয়ে মাছ ধরার সিদ্ধান্ত নিই। খোঁজ নিয়ে থাইল্যান্ডের ৪২ বছরের পুরোনো বুং সামরান ফিশিং পার্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।
৫ আগস্ট ব্যাংককে পৌঁছে পরদিন গাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ফিশিং পার্কে যাই। নিবন্ধনের পর একটি বাংলোয় থাকার ব্যবস্থা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় একজন গাইড। প্যাকেজের মধ্যে ছিল ফিশিং রড, হুইল, মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, গাইড ও বাংলো। দুজনে মিলে একটি ফিশিং রডের জন্য খরচ হয় ৬ হাজার বাথ। পাশাপাশি জনপ্রতি ২ হাজার বাথ দিয়ে এক দিনের মাছ ধরার লাইসেন্স নিতে হয়।
প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই হ্রদে রয়েছে ৪০টির বেশি প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশের ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। রয়েছে ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জায়ান্ট সিয়ামিজ কার্পও।
ফিশিং শুরু করার পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই বড় একটি মাছ ছিপে টান দেয়। ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করার পর সেটি কাছে আসে। পরে জানা যায়, এটি ৩৬ কেজি ওজনের মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ। গাইডের সহায়তায় মাছটি তীরে তুলে বড়শি খুলে ছবি তোলার পর আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এখানে মাছ ধরার নিয়ম হলো ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’। অর্থাৎ মাছ ধরার পর ছবি তুলে সেটিকে আবার পানিতে ছেড়ে দিতে হয়। মাছ যাতে আহত না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়।
এরপর একের পর এক বড় মাছ ধরা পড়ে। দ্বিতীয়বার প্রায় ৫০ কেজি ওজনের একটি মাছ ধরি। দিনের শেষ দিকে পাওয়া যায় সবচেয়ে বড় মাছটি। মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশটির ওজন ছিল ৭৬ কেজি। এত বড় মাছ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
ফিশিংয়ের সময় ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত। তবে দুপুরের মধ্যেই প্রায় ২২ থেকে ২৩টি বড় মাছ ধরা পড়ে। দীর্ঘ সময় বড় মাছের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে শরীরেও বেশ চাপ পড়ে।
বুং সামরানে সর্বোচ্চ প্রায় ১২০ কেজি ওজনের মাছ ধরার রেকর্ড রয়েছে। সেখানে ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরা শিকারিদের নামও সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত ১০০ কেজি ওজনের একটি মাছ ধরা। এবার সেই লক্ষ্য পূরণ না হলেও অভিজ্ঞতাটি ছিল দারুণ। ভবিষ্যতে আবারও সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।
কেএম