দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া গণআন্দোলনের ওপর কঠোর দমন–পীড়নের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ভোটাররা। ওই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার সকালে নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোট শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। দেশের ৬৪ জেলার ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ভোট গ্রহণ হবে।
নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। এবারই প্রথম ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী শ্রমিক ভোট দিতে পারবেন।
বাংলাদেশে একক কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ রয়েছে, যার মোট আসন ৩৫০টি। এর মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোট হয়, আর বাকি ৫০টি নারী আসন নির্বাচনের ফল অনুযায়ী দলগুলোকে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পান তিনিই বিজয়ী হন। কোনো দল ১৫১টি আসন পেলেই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে।
এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৪ সালের জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর, যেখানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেয়নি এবং যেটিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু বলেনি। ওই বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে শেখ হাসিনার নির্দেশে কঠোর দমন অভিযান চালানো হয়। তাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত ও ২০ হাজারের বেশি আহত হন। পরে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ভারত তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি। এ সময় তার দল আওয়ামী লীগকেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ নিয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংবিধান সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের রূপরেখা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনে প্রধান দুই জোটের লড়াই হচ্ছে। কেন্দ্র–ডানপন্থী বিএনপি ১০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে প্রচারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও। দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাদের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়। এবার প্রথমবার তারা বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই ভোটকে ঘিরে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রশ্নে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/