দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারতান্ত্রিক বিজয় ও শাসন নয়, দেশবাসী এখন নতুন বাংলাদেশ ও নতুন ব্যবস্থাপনা দেখতে চায়। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ হবে জনকল্যাণমুখী, যা কোনো ব্যক্তি বা দলের সন্তুষ্টির জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের জন্য পরিচালিত হবে।
শুক্রবার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদরের আরসি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা নিজের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশও সামলাতে পারবে না। আর যারা নিজের দল সামলাতে পারে, তারাই দেশ সামলাতে পারবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন করে কোনো চোর বা লুটেরা তৈরি করা হবে না। তিনি দাবি করেন, দেশের ব্যাংকিং খাত টিকে থাকার লড়াইয়ে আছে এবং আগামী দিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে বড়। তবে সৎ ও দক্ষ মানুষরা দায়িত্ব পেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। যারা সংশোধনের সুযোগ নেবে না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা এ লুটপাটে জড়িত, তারা কখনও সেই টাকা ফেরত আনতে চাইবে না। বরং আবার দেশ লুটে খেতে চাইবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে লুটের টাকা উদ্ধার করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।
বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি দলের জন্য এক রকম আর বিরোধী দলের জন্য আরেক রকম বিচার চলবে না। একই অপরাধে সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই আইন প্রয়োগ হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটখাটো চোর নয়, রাঘব বোয়াল ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ হলে মানুষের জীবনে অর্ধেক শান্তি ফিরে আসবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলাম হারাম কাজে জড়ায় না। তাদের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি, দখলদারি বা মামলা বাণিজ্যে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন। ৬ আগস্টের পর টানা ১৫ দিন সারা দেশে জামায়াত কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রতিশোধের রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে, তবে নিরপরাধ কাউকে মামলায় জড়ানো যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও শত শত আসামি দিয়ে মামলা করে বাণিজ্য করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পরে একজন বেঁচে যাওয়া নেতাকে আদালত মুক্তি দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী এই সময়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা কয়েকটি জাতীয় বাজেটের সমান।
অতীত রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান উভয়েই দেশ পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী অস্থিরতা ও হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
এমএস/