দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ও সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় বলা হয়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু একটি কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড এবং এ ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, দীর্ঘ রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে অর্জিত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নস্যাৎ করে নতুন করে ফ্যাসিবাদের সংস্করণ কায়েমের অপচেষ্টা চলছে। এসব ঘটনা সরকারের নাকের ডগায় ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, যা দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে।
সভায় আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে হাদি হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা ও সহিংসতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র বলেই বিএনপি মনে করে।
বিএনপি শান্তিকামী দেশবাসীর পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। নৈরাজ্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটি জানায়, যে ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সভায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতের হাইকমিশনের কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অগ্নিসংযোগ, ছায়ানট ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে হামলা, উত্তরা ও রাজশাহীতে ভাঙচুর, ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসা ও সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলার ঘটনা।
এমএস/