দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আগুন সন্ত্রাসী হয়েও ফেরেশতা হওয়া যায়, এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। যতগুলো মামলা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, সবগুলো মামলা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধেও করা হয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় যারা অভিযুক্ত হন, আওয়ামী লীগ তাদেরকে কি বলে? আগুন সন্ত্রাসী।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি। নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারের সভাপতিত্বে নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাবের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, এসএম শামসুল আলম নিক্সন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদারুল ভুঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগে যোগ দিলে আগুন সন্ত্রাসী ভালো হয়ে যায়। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আগুন সন্ত্রাসী ফেরেশতা হয়ে যায়। এই ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর আগুন সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরেশতা হয়ে গেছেন। এখন উনি আর জঙ্গি সন্ত্রাসী নন। তারপরে তার জামিন কিভাবে হয় তাও আপনারা দেখলেন, আর আওয়ামী লীগের টিকিট কিভাবে পাওয়া যায়। এই আওয়ামী লীগের ভাষায় তথাকথিত আগুন সন্ত্রাসী, এরা যদি আওয়ামী লীগে যোগ দেয় সবাই ফেরেশতা হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জেনারেল এরশাদকে অভিযুক্ত করা হতো তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কেনাবেচা করছেন, তিনি রাজনীতিকে দূষিত করছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা জেনারেল এরশাদের সময়ে এভাবে রাজনীতির কেনাবেচার শিকার হয়েছিলেন, কোরবান আলী থেকে শুরু করে অনেক। আজকে আওয়ামী লীগ সেই সামরিক স্বৈরাচারের সব পথ আরও ব্যাপকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।
‘রাজনীতি দুষিত করে পুরো রাজনৈতিক একটা প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক একটা ব্যবস্থাকে তারা পুরোপুরি কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। বাংলাদেশ থেকে রাজনীতিকে উঠিয়ে দিয়ে বিরাজনীতিকরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ওরা মিথ্যাচার-প্রতারণাকে একমাত্র অবলম্বন করেছেন। গতকাল ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, তারা নাকি গণতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত করছে। এর চাইতে মিথ্যা কথা, এর চাইতে বড় প্রতারণা আর কোনো কিছু হতে পারে না।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, এই একতরফা নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে না। যে নির্বাচনে জানি কোন দল জিতবে, এই নির্বাচনে কে জিতবে আমরা সবাই জানি না? আওয়ামী লীগ জিতবে। জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবে আমরা সবাই জানি না? শেখ হাসিনা হবে। তাহলে এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার কোনো দরকার আছে?
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভোট দিতে যাবে, কোনো দেশপ্রেমিক এই নির্বাচনে ভোট দিতে যেতে পারে? বাংলাদেশের কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ এরকম একটি ভুয়া নির্বাচন ভোট দিতে যেতে পারে না। সেই কারণে বলি, জনগণকে আহ্বান জানাই এই ভোট বর্জন করুন। আপনার নীবর অবস্থান থেকেও যে প্রতিবাদ আপনি করতে পারেন সেটা করুন। নিজের নৈতিক কর্তব্য এদেশের প্রতি কর্তব্য আপনারা পালন করবেন।
এইউ