দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাওলানা ভাসানীর সহচর, বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক সৈয়দ ইরফানুল বারী ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১২:২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮১ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সৈয়দ ইরফানুল বারী ১ মার্চ ১৯৪৫ সালে কিশোরগঞ্জের হয়বৎনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা তমালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে শেষ করেন।
তিনি ১৯৬৫ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক ‘পয়গাম’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে এবং ১৯৭২ থেকে সাপ্তাহিক ‘হক-কথা’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি জেল-জুলুমের শিকার হন।
সৈয়দ ইরফানুল বারী মুক্তিযুদ্ধকালীন কলমসৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি মাওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠান যেমন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হুকুমতে রব্বানিয়া আন্দোলন, সমবায় আন্দোলন, খোদায়ী খিদমতগার আন্দোলন, মুসাফিরখানা ও গবেষণা কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি মাভাবিপ্রবিতে মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রবুবিয়াত দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন এবং নৈতিকতা, মনোবিজ্ঞান, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন, পানি ও পরিবেশ, ঐশী জীবন ইত্যাদি বিষয়ে বহু গবেষণা ও লেখা প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মওলানা ভাসানীর ভূমিকা’, ‘মওলানা ভাসানীর অনশন’, ‘হুকুমতে রব্বানিয়া’, ‘আমার ভালোবাসা মওলানা ভাসানী’, ‘সূফীর জীবন’ সহ বহু বই ও কাব্যনাট্য।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাভাবিপ্রবি পরিবার তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা বলছেন, সৈয়দ ইরফানুল বারীর অবদান ভাসানী গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তা-চর্চায় এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সংগ্রামী জীবন, গবেষণা ও লেখালেখি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এমএস/