দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সার আমদানি সংক্রান্ত পরিপত্রের নিয়ম কানুনকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে জিটুজির পদ্ধতিতে নিন্ম মানের সার আমদানীর অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির বিরুদ্ধে। এছাড়া ভেজাল, নিম্ম মানের সার আমদানীর নামে পাচার হচ্ছে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় ইফা কনফারেন্স। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং ট্রেডিং কোম্পানীর মালিক ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন। ইফা কনফারেন্সে জিটুজির পদ্ধতিতে ভেজাল, নিম্মমানের সার আমদানীর করে বাংলাদেশ থেকে যে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে সেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে রাষ্ট্রীয় ভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে জি টু জি’র মাধ্যমে সেই দেশের সরকারীভাবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে সার আমদানী করে থাকে। জিটুজির চুক্তি অনুযায়ী সেই দেশের বেসরকারী ভাবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন ট্রেডিং কোম্পানীর নিকট থেকে কোন ভাবেই সার আমদানী করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু সার আমদানি সংক্রান্ত পরিপত্রের কোন নিয়মনীতিকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে জিটুজির চুক্তির নামে চায়নার বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। (যার ঠিকানা গ্লু ডিষ্ট্রিটেট, ফুজিয়া, চায়না)। প্রথম বছর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডকে রপ্তানীকারক বানিয়ে চায়নার বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইউয়া এবং শ্যাং ফ্যাং নামক দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে নিন্ম মনের সার ক্রয় করে বাংলাদেশে প্রেরণ করেছে। বিএডিসির লেটার অফ ক্রেডিটের (এলসি) মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চায়নার বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড বিভিন্ন বেসরকারী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ভেজাল এবং নিম্মমানের সার ক্রয় করে থাকে। পরের বছর থেকেই বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড আমদানীকারক সেজে ইউয়া এবং শ্যাং ফ্যাং নামক দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে সার ক্রয় করে দেশে প্রদান করে। বেসরকারীভাবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাগজপত্রে সরকারী প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে সার সরবররাহের অনুমতি প্রদান করে। এছাড়া বিএডিসি চায়নার বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডকে চায়নার যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সার আমদানী এবং যে কোন বন্দর ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে।
একটি বিশস্ত সূত্রে জানা গেছে, চায়না থেকে যে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার আমদানি করা হচ্ছে সেই ডিএপি সারে ১৮% নাইট্রোজেন এবং ৪৬% ফসফেটসহ ৬৪% থাকার কথা এলসিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডকে চায়নার যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সার আমদানী এবং যে কোন বন্দর ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করায় তারা ৬৪% সারের সাথে নিন্ম মানের ৫৭% ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার মিশিয়ে রাতের আধাঁরে জাহাজে লোড করছে। আবার এই ৫৭% ডিএপি সারের মধ্যে ফসফেট ৪৩% এবং ১৪% নাইট্রোজেন রয়েছে। ডিএপি সারে নাইট্রোজেন ও ফসফেট ৬৪% হিসেবে চায়না থেকে আমদানীকৃত প্রতি মেট্রিকটন সারের মূল্য, জাহাজ ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ ৮৯০ থেকে ৮৯৫ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিকটন সারে ৭% নাইট্রোজেন ও ফসফেট কম দেয়ার কারনে প্রতি মেট্রিকটন সারে মূল্য কমে যায় প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার।
সূত্রটি আরো জানায়, চায়নার বেসরকারী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ থেকে ৪ ধরণের গ্রেডের ডিএপি সার উৎপাদন করে থাকে। সেই কারণে ৬৪% সারের সাথে ৫৭% সার মিশানো সহজ হচ্ছে। আমদানীকৃত সার জাহাজীকরণের সময় চায়নার লোকাল কোম্পানী বানিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেড প্রতি ৪০ হাজার মেট্রিকটন সারের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন সার রাতের অন্ধকারে মিশ্রন করে জাহাজ লোড দিচ্ছে। জাহাজীকরণের সময় জাহাজের নিচে প্রথমে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন সার লোড করে। তার উপরে ২৫ থেকে ২৬ হাজার মেট্রিকটন ৬৪% নাইট্রোজেন ও ফসফেট সংযুক্ত সার লোড করে থাকে। আগামী ৩০ অক্টোবর চায়না থেকে ৪৪ হাজার মেট্রিকটনের আরো ৩টি জাহাজ নিম্মমানের সার নিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। সরকারের উচিত এখই চায়নাতে যে সার জাহাজে লোড করা হচ্ছে সেটা বন্ধ করা। যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে সেই সার ব্যবহার করলে দেশের প্রান্তিক চাষীদের ফসল উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হবে। বিএডিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদক কে জানান, নিম্মমানের সার দেশে আসার মুল কারন হচ্ছে কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন কোং (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী একটি অক্ষাত এবং নিন্ম মানের কোম্পানীকে ইন্সেপেকশনের জন্য নিয়োগের কারণে। ইন্সেপেকশন কোম্পানী এলসির ক্লজ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সারের মধ্যে নাইট্রোজেন ও ফসফেট এলসি অনুযায়ী আছে কিনা এবং সারের কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি বুঝে নিয়ে সারের স্পর্শ কাতর বিষয়ে সাটিফিকেট ইস্যু করা হয়। ইন্সেপেকশন কোম্পানী এলসির ক্লজ অনুযায়ী সার্টিফিকেট ইস্যু করণের পর রপ্তানীকারক এই সার্টিফিকেট ব্যাংকে জমা দিয়ে তার বিল উত্তোল করে থাকে। সচরাচর যে কোন পণ্য আমদানীর ক্ষেত্রে ইন্সপেকশন কোম্পানী এসজিএস (আমেরিকা) ইন্সপেক্টরেট অথবা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বিদেশী কোন কোম্পানী দ্বারা সারের গুণগতমান পরীক্ষা করে সাটিফিকেট ইস্যু করণের কথা এলসিতে উল্লেখ থাকলেও সোনালী ব্যাংকের দেয়া গত ২৫ সেপ্টেস্বর এলসিতে কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক নাম স্বর্বত্র, অক্ষাত এবং নিন্ম মানের ইন্সপেকশন এই কোম্পানী উল্লেখ করেছে। যার কারণে এই চক্রটি তাদের টাকা এলসির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সহজ হয়েছে। নাম স্বর্বত্র, অক্ষাত এবং নিন্ম মানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু টাকা পাচারের সহযোগী না তারা দেশের ১৩ কোটি প্রান্তিক কৃষকের সাথে প্রতারনা করছে। আমদানীকৃত সারে ৫০% থেকে ৫৫% নাইট্রোজেন ও ফসফেট মেশানোর কারণে প্রতি মেট্রিকটনে ৯৫ থেকে ১শ ডলার এলসির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে নিচ্ছে। এছাড়া এই চক্রটি একই ভাবে তিনোশিয়া এবং মরক্কো থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার টিএসপি সার আমদানী করা হচ্ছে সেই সারের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য নাম স্বর্বত্র, অক্ষাত এবং নিন্ম মানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ করা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, কানাডা ও রাশিয়া থেকে যে সার আমদানী করা হয় সেই সার প্রতি জাহাজে ৩০ হাজার মেট্রিকটন করে সার আমদানীর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রতি জাহাজে তারা ৪৫ খেকে ৫০ হাজার মেট্্িরকটন সার লোড করে নিয়ে আসছে। ৩০ হাজার মেট্্িরকটন জাহাজের পরিবর্তে যদি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মেট্্িরকটনের জাহাজে করে সার আমদানী করা হয় সে ক্ষেত্রে প্রতি টন সারে ১৫ থেকে ২০ ডলার বেশী নেয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রতি মেট্্িরকটনে যে ১৫ থেকে ২০ ডলার বেশী নেয়া হচ্ছে সেই টাকাটা কে পাচ্ছে। কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই অখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি স্মরনীর ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে অবস্থিত। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিমাসে এই সকল এলসি অডিট করে থাকলেও কিভাবে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে টাকা পাচার করছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের এআরও তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে আমদানীকৃত ডিএপি সারে আর্দ্রতার (গড়রংঃঁৎব) হার ১% থাকতে হবে। লেটার অফ ক্রেডিটে (এলসি) কোন ভাবেই এআরও বাহিরে গিয়ে সারের আর্দ্রতার হার বেশী উল্লেখের সুযোগ নেই। কিন্তুগত ১৪/০৯/২০২৫ ইং তারিখে সোনালী ব্যাংক লোকাল শাখা থেকে প্রদান করা লেটার অফ ক্রেডিটের (এলসি) আমদানিকৃত সারের আর্দ্রতার হার ১.৫% উল্লেখ করেছে। যা সার আমদানি সংক্রান্ত পরিপত্র পরিপন্থী। লেটার অফ ক্রেডিটে (এলসি) আমদানিকৃত সারে আর্দ্রতার হার .৫% বেশি উল্লেখ করার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা সরকারের স্বাশ্রয় হয়। কিন্তু লেটার অফ ক্রেডিটে (এলসি) আমদানিকৃত সারে আর্দ্রতার হার .৫% বেশি উল্লেখ করে টাকা এলসির মাধ্যমে প্রেরণ করে থার্ড পার্টির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার ডলার পাচার নিচ্ছে সরকারি সারের বিনির্দেশমালা অনুয়ায়ী সার আমদানি করার ক্ষেত্রে কোন উপকরন কম হলে সারের মূল্যও সে অনুপাতে কম হবে। সূত্রটি জানায়, চায়না থেকে সার দেশে আসার পর জাহাজের উপর টেস্ট করণের জন্য স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট রিপোর্ট প্রদান করে। চায়না থেকে যে ডাই এ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার আমদানী করা হচ্ছে সেই সার প্রতি মেট্রিকটনের মূল্য ৮৯৫ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিকটন সারে দাম ৮৯০ মার্কিন ডলার। ৮৯৫ মার্কিন ডলার। প্রতি ১% নাইট্রোজেন ও ফসফেট সারের মূল্য ১৩.৯৮৪ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিকটন সারে ৭% নাইট্রোজেন ও ফসফেট উপাদান কম প্রদান করায় ১০০ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত এলসির মাধ্যমে পাচার করে নিচ্ছে। প্রতি ৪০ হাজার মেট্্িরকটন জাহাজে প্রতি ডলার বাংলাদেশী টাকায় ১২২টাকা হারে ১৮ কোটি ৩০ লাখ পাচার করে নিচ্ছে এই চক্রটি। এদিকে তিনেশিয়া, মরক্কো থেকে মোজাইক কোম্পানী মধ্যস্থতায় বেশী মূল্যে যে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানী করা হচ্ছে। আমদানীকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ডাস্ট সার এবং হেভী মেটাল সার। এই সারে রিসাইক্লিন মেশানো হয়। হেভী মেটাল সারে ১০% সোডিয়াম থাকার কথা। সেই সারের মধ্যেও সেই দেশের লোকাল ট্রেডিং কোম্পানী একই প্রক্রিয়ায় প্রতি ৪০ হাজার মেট্রিকটন জাহাজের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন ভেজাল সার মিশ্রন করে জাহাজ লোড দিচ্ছে। এতে শত শত কোটি টাকা এলসির মাধ্যেমে বিদেশে পাচার করে নিচ্ছে এই চক্রটি। কে এই কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেডের মালিক: কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী দুর্বল ইন্সেপেকশন কোম্পানীটির মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ। মোহাম্মদ উল্লাহ গত ১৫ বছরের বেশী সময় যাবত বিএডিসি এবং কৃষি মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত সারের এলসির মাধ্যমে এসব অনিয়ম, দূর্নীতি এবং দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মোহাম্মদ উল্লার ব্যবসায়ীক পার্টনার হলেন বিগত ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের জামাতা পরিচয়দানকারী মোঃ সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেন মালয়েশিয়াতে অবস্থান করে বিএডিসির এজেন্ট হিসেবে এই কাজ পরিচালনা করছে। ইন্সপেকশন কোম্পানীর বিল সাধারণত রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান প্রদান করে থাকে। কিন্তু কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী দুর্বল ইন্সপেকশন কোম্পানীটির বিল প্রদান করছে বিএডিসি। আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান জাহাজ লোড করার সময় জাহাজের নিচে ইন্সপেকশন কোম্পানী সার জাহাজী করণের সময় সারের এলসি অনুয়ায়ী কেমিক্যাল পরীক্ষা করে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি বুঝে নিয়ে সারের স্পর্শ কাতর এই সাটিফিকেট ইস্যু করে থাকে। সাটিফিকেট ইস্যু পর সরকার আমদানী কারকদের মূল্য পরিশোধ করে থাকে। কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন কোং (বিডি) লিমিটেড এই প্রতিষ্ঠান সারের ইন্সপেকশন না করে নিজেদের মতো করে ইন্সপেকশন রির্পোট তৈরি করে আমদানী কারকদের প্রদান করে শত শত কোটি টাকা পাচার করে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভাবে আমদানীকৃত কোন পন্য ইন্সপেকশন করার জন্য লোকাল কোন প্রতিষ্ঠান কে নিয়োগ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া ‘কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড’ নামক বাংলাদেশী অক্ষাত এবং নি¤œমানের এই কোম্পানী কে ইন্সপেকশন করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে টাকা পাচার করার জন্য। নাম স্বর্বত্র, অক্ষাত এবং নি¤œমানের এই ইন্সপেকশন কোম্পানী কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটি ঠিকানায় উল্লেখ করা হয়েছে রাজধানীর বাড্ডার ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে। ইন্সপেকশন কোম্পানীর ফি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করার কথা থাকলেও বিধি বহিঃর্ভূত ভাবে কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের জন্য ফি পরিশোধ করছে বিএডিসি। সরকারী আইন ভঙ্গ সরকারি সারের বিনির্দেশমালা অনুয়ায়ী সার আমদানি করা হয় এক্ষেত্রে কোন উপকরন কম হলে সারের দাম সে অনুপাতে কম হবে। কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক বাংলাদেশী দুর্বল ইন্সেপেকশন কোম্পানীর মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ। মোহাম্মদ উল্লাহ গিত ১০ বছর যাবত বিএডিসির মাধ্যমে এই প্রতারনা করে আসছে। মোহাম্মদ উল্লার ব্যবসায়ীক পার্টনার হলেন বিগত ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের জামাতা মোঃ সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেন বর্তমানে মালয়েশিয়াতে অবস্থান করে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। চায়নার আমদানী কারক এবং বিএডিসির মধ্যে মধ্যস্থাকারী হিসেবে কাজ করছে সাব্বির হোসেন। সাব্বির হোসেন বিদেশী আমদানীকারকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা গ্রহণ করছে। অভিযোগ উঠেছে, চায়না, তিনেশিয়া, মরক্কো, কানাডা থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার সার আমদানী করা হচ্ছে সেই সারের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য নাম স্বর্বত্র, অক্ষাত এবং নি¤œমানের কন্টিনেটাল ইন্সেপেকশন কোং. (বিডি) লিমিটেড নামক এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন দেয়া হয়েছে সেটা তদন্তের জোর দাবি উঠেছে।