দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, জনগণ সচেতন হলে এবং সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা গেলে এবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুবিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে সচেতন আছি। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
মশা নিধনের স্প্রে নিয়ে জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় গবেষণা চলছে জানিয়ে আবদুল মঈন খান বলেন, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সরকার কাজ করছে।
সীমিত সম্পদের মধ্যেই সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব প্রয়োজন হয়তো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। মশা ও লার্ভার বিস্তার যাতে না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো ও প্রাণহানি কমাতে দিনরাত কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাই সচেতন হলে এবং সঠিক ওষুধ প্রয়োগ হলে এবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব বলে আশা করছি। জনগণের কাছে সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে কাজ করছি, এটিই আমাদের কাজ।’
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও গতবারের তুলনায় এবার রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্প্রেসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকার নিজ জায়গা থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি জনগণকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। যেসব স্থানে লার্ভার উৎপত্তি হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি জানান, এবার সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে পিরোজপুরে। সেখানে সুপারি ও নারকেল গাছ কাটার পর গাছের গোড়ায় পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গতবারের তুলনায় এবার রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বলে জানান তিনি।
চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে বরাদ্দের অর্থ শেষ করার প্রবণতার কারণে বর্ষাকালে খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। নতুন অর্থবছর চালু হলে এ সমস্যা থাকবে না এবং শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি হয়—এ ধরনের কোনো উন্নয়নকাজ বর্তমান সরকারের সময়ে করা হবে না।’
এমএম/