দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের জন্য তা প্রাণঘাতী হুমকি হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ তুলে ধরে তামাকবিরোধী ছয়টি সংগঠন।
সংগঠনগুলো হলো, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্ক (পিএইচএল), তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এবং সিটিজেন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি)।
শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি, শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের সময় ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট—যেমন ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আইনের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ায় এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যত কোনো আইনি বাধা রইল না।
তাদের মতে, এ সুযোগে বিক্রেতারা যেকোনো বয়সী ক্রেতার কাছে এসব পণ্য বিক্রি করতে পারবে, যা শিশু-কিশোরদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়িয়ে তুলবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ই-সিগারেট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং আপিল বিভাগের নির্দেশনা থাকলেও আইনগত দুর্বলতার কারণে এসব পণ্যের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অজুহাতে নতুন এসব নেশাজাত পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। অথচ বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার তুলনামূলক কম।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের (টিসিআরসি) গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, তরুণদের আকৃষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এলাকায় ই-সিগারেটের দোকান গড়ে উঠছে। বিভিন্ন কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে অবৈধ প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম আসক্তি তৈরি করে এবং এটি নিরাপদ নয়। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে পৃথক আইন প্রণয়ন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তামাক কোম্পানি অনুমোদন এবং ই-সিগারেট আমদানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিএসডির আহ্বায়ক একেএম মাকসুদ। এতে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল মাসুদ, মো. বজলুর রহমান, ডা. শাহ ইসরাত আজমেরী, শাগুফতা সুলতানা, সীমা দাস সীমু ও অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা কুমকুম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফারহানা জামান লিজা এবং সঞ্চালনা করেন সামিউল হাসান।
জে আই