দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণভোট শুধু একটি কাগজে দেওয়া সিল নয়, এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা এবং দেশের আগামী দিনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আজ নাগরিক হিসেবে মানুষের দায়িত্ব ও অধিকার এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি, যা আগের কোনো জাতীয় নির্বাচনে দেখা যায়নি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল জনপ্রতিনিধি নয়, দেশের ভবিষ্যৎ পথও নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে এগোবে, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ধারায় ফিরবে, সে প্রশ্নের উত্তর দেবে এই গণভোট।
প্রধান উপদেষ্টা সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও তার অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এমএস/