দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা এক কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোটে ভোট দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা। রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত এ গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অভিবাসন, আবাসন সংকট, শ্রমবাজার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির জনসংখ্যা এক কোটির বেশি না রাখার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন নাগরিকরা। ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
দলটির দাবি, ‘টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ’ হিসেবে আনা এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন, সরকারি সেবা ও পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি মূলত অভিবাসনবিরোধী আরেকটি পদক্ষেপ।
সুইস সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়ন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি কার্যকর হলে হাসপাতাল ও হোটেল খাতে কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯১ লাখে পৌঁছেছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী।
সুইজারল্যান্ডের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত গণভোটের মাধ্যমে নেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ের গণভোট আয়োজনের জন্য এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করলেই উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।
দেশটির অনেক নাগরিক ভিড়ে ঠাসা ট্রেন, আবাসনের উচ্চ ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছেন, ৪৫ শতাংশ সমর্থন করছেন এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের অধিকার সংকুচিত করার বিষয়ও থাকতে পারে।
এ ছাড়া জনসংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অবাধ চলাচলসংক্রান্ত চুক্তিসহ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করতে হবে।
এ সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনোমিসুইস। সংগঠনটির প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেন, প্রস্তাবটি পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই তাদের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্পষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখা দেশের স্বার্থে প্রয়োজন।
অন্যদিকে দেশটির নিয়োগকর্তারা শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সুইজারল্যান্ডের হোটেল খাতে কর্মরতদের প্রায় অর্ধেকই অভিবাসী। হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রগুলোও বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তবে সুইস পিপলস পার্টির দাবি, অভিবাসনের কারণে হাসপাতালের শয্যা, স্কুলের আসন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে। অভিবাসন কমানো গেলে সেই চাপও কমবে।
বিরোধীরা বলছেন, এই যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ এবং সামাজিক সেবা সচল রাখতে তরুণ কর্মী ও করদাতার প্রয়োজন। অথচ দেশটি নিজস্ব জনশক্তি দিয়ে সেই চাহিদা পূরণে সক্ষম নয় বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
এমএস/