দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতে গ্রেপ্তারের যে দাবি করা হয়েছে, তা অসত্য বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
রোববার এক প্রতিবেদনে মেঘালয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে তাদের রাজ্যে পাওয়া যায়নি এবং কোনো গ্রেপ্তারও হয়নি।
এর আগে রোববার ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগীকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইনফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে মেঘালয় পুলিশের পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও এই দাবি নাকচ করেছে। বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের প্রধান ওপি উপাধ্যায় বলেন, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির মেঘালয়ে প্রবেশের প্রমাণ নেই। তারা এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে অবগত নয় বলেও জানান তিনি।
মেঘালয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোনো অভিযুক্তকে গারো পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো গ্রেপ্তারও হয়নি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জবানবন্দি অনুযায়ী ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে সিএনজিযোগে আমিনবাজার হয়ে মানিকগঞ্জের কালামপুরে যান। সেখান থেকে একটি প্রাইভেটকারে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান।
ডিএমপি জানায়, হালুয়াঘাটে পৌঁছানোর আগে একটি ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় তাদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে সীমান্ত পার হয়ে তারা ভারতের মেঘালয়ে পৌঁছায় বলে পুলিশের ধারণা।
এ বিষয়ে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
এমএস/