দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ঘটনার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, গার্লফ্রেন্ড মারিয়া আক্তার লিমাসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষীও একই ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, বুলেট, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত এবং প্রায় ৫৩টি অ্যাকাউন্টের ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ককটেল, গ্রেনেড, বোমা তৈরির উপকরণ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩৪১ জনে।
তিনি আরও জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়মনসিংহে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক পোশাক শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
এমএস/