দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানী শাহবাগ থানায় তুলে নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে মারধরের ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিন। ওই দিনের ঘটনায় তিনি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশীদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এডিসি হারুনের পক্ষ নেন।
এডিসি সানজিদা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বারডেমের ইটিটি রুমে ছিলেন। ইটিটি’র শেষ পর্যায়ে তিনি রুমের বাইরে একটা হট্টগোলে শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, প্রথম যে চিৎকারটি আমার কানে আসল, সেটা স্যারের। তিনি বলছেন, ভাই আপনি আমার গায়ে হাত তুললেন কেন? আপনি তো আমার গায়ে হাত তুলতে পারেন না।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তো, এটা আমি ফার্স্ট শুনলাম। আমার প্রথমে ধারণা হয়েছিল, হতে পারে অন্য কারও সাথে কোনো ঝামেলা বা কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই আমি দেখতে পারি যে, আমার হাজবেন্ড। উনি আসলে ওখানে কেন গিয়েছেন, কী করছেন, আমি আসলে জানি না। ওনাকে টোটালি আউট অব মাউন্ড লাগছিল। এবং উনি খুবই উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। উনার সাথে বেশ কয়েকজন ছেলেও ছিল, তাদেরকে চিনি না। তাকে মারতে মারতে টেনে-হিঁচড়ে রুমটা ভেতর নিয়ে আসেন।
এবং এ রুমটার ভেতর যখন তারা স্যারকে আনলেন, তখন তাকে মারছিলেনই। একপর্যায়ে স্যার তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওই ইটিটি রুমটার একটা কোনায় গিয়ে দাঁড়ালেন। এবং ওই সময় আমার হাজবেন্ড আনফরচুনেটলি, ভেরি আনফরচুনেটলি ওই ছেলেদের বললেন, তোরা এই দুই জনের ভিডিও কর। এবং আমি তখন ইটিটি’র পোশাকে ছিলাম। গায়ে বিভিন্ন রকমের তার-টার লাগানো ছিল। সেটা খুব শালীন অবস্থা ছিল না। তো আমি আমার হাজবেন্ডে সাথে শাউট করছিলাম যে, এই রুমে তো কোনো ছেলে ঢোকার কথা না। আপনি ঢুকেছেন কেন এবং এতগুলো লোক নিয়ে কেন ঢুকেছেন। আপনি আবার এদের বলছেন ভিডিও করার জন্য।
তো এটা নিয়ে আমি তার সাথে শাউট করছিলাম। তখন তিনি আমাকেও দুই-তিনটা চড় মারেন। তো পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়ে যায়, আমার ড্রাইভারও ছুটে আসে। ও মাঝখানে দাঁড়ায়। আমার ড্রাইভারের ওপর দিয়ে আসলে আমার গায়ে হাত তোলা হয়। এবং একটা পর্যায়ে, যারা ভিডিও করছিল, একটা ছেলের হাত থেকে আমি ফোন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় ওর সঙ্গে আমার একটা হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। আমি কোনোভাবেই চাচ্ছিলাম না, ওরা এই অবস্থায় আমার ভিডিও করুক।
প্রসঙ্গত, রমনা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশীদ শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আরেক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বারডেম হাসপাতালে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় নারী কর্মকর্তার স্বামী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। নারী কর্মকর্তার স্বামীও একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার সঙ্গে এডিসি হারুনের বাগবিতণ্ডা হয়।
পরে এডিসি হারুন দুই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকে শাহবাগ থানায় তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেন। এরপর তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়লে ওই দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এইউ