দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের যে নারী কর্মকর্তার নাম শোনা যাচ্ছেন, সেই কর্মকর্তা এবার মুখ খুলেছেন। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সানজিদা খাতুন নামের ওই কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, আসলে গত কিছুদিন ধরে আমার কার্ডিয়াক প্রবলেম হচ্ছিল। আমি আসলে ২০১৯ সাল থেকে হাইপারটেনশনের মেডিসিন খাচ্ছি। লাস্ট চার-পাঁচ মাস ধরে সেই প্রবেলমটা বেশ বেড়েও যায়। দুই-তিন সপ্তাহ ধরে চেস্ট পেইনটা বেড়ে যাচ্ছিল। তো যেহেতু টাইম ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি, গত শনিবার ব্যথাটাও একটু বাড়ে।
তো, ওইদিন আমার মনে হলো আজকে একটু ফ্রি সময় আছে। যেহেতু একটু টাইম ম্যানেজ করতে পারছি, তো আজকেই ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে কোনো ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছিলাম। এখন যেহেতু একটু আর্জেন্ট ছিল, চেস্ট পেইনও বাড়ছিল, তো আমি ল্যাবএইডে যে স্যারকে দেখাই, তিনি দেশের বাইরে আছেন, তো ওইদিন আমার মনে হলো, অফিস থেকে যাওয়ার পথে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের কোনো ডাক্তারকে দেখাতে পারি।
এডিসি সানজিদা বলেন, তো, ইমার্জেন্সি যেহেতু আমার একজন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দরকার ছিল, সেজন্য আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক, যে স্যারের জুরিসডিকশনে আছে, স্যার পরিচিত, তো আমি এজন্য আমি স্যারকে (যে স্যারকে নিয়ে কথা হচ্ছে), এডিসি স্যারকেই বলি যে, স্যার আমাকে একটা সিরিয়াল ম্যানেজ করে দেওয়া সম্ভব কিনা?
তিনি আরও বলেন, তখন স্যার ওসির মাধ্যমে একটা সিরিয়াল ম্যানেজ করে দেন। সেটা সন্ধ্যা ৬টার পর স্যারের সিরিয়াল ছিল। তো আমি সেই হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর আসলে যাই ওখানে। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর জানতে পারি, ডাক্তার ওখানে একটা কনফারেন্সে আছেন। তো কনফারেন্সে থাকার কারণে যেহেতু আমার আর্জেন্ট দরকার ছিল, আমি স্যারকে ফোন করি, যে স্যার ডাক্তার কনফারেন্সে আছেন, উনি হয়তো আজকে দেখবেন না। আমার আর্জেন্ট দরকার ছিল, অন্য কাউকে ম্যানেজ করা যায় কিনা?
তো, স্যার সম্ভবত আশেপাশেই ছিলেন, এজন্য স্যার তখন বললেন, আপনি ওখানে বসেন আমি এসে দেখে কথা বলে কিছু ম্যানেজ করা যায় কিনা। বেশ কিছুক্ষণ পর স্যার আসেন, এসে ওনাদের সঙ্গে কথা একজন ডাক্তার ম্যানেজ করেন। এবং আমি ডাক্তারকে দেখাই। উনি বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছেন। আমি ব্লাড টেস্ট করেছি, ইকো করানো হয়েছে। ইসিজি করানো হয়েছে। সে সময়টা আসলে ইনসিডেন্ট আমি ইটিটি করাচ্ছিলাম।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তো, ইটিটি রুমে ছিলাম। ইটিটি রুমে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়, ২০-২৫ মিনিটের মতো। তো ইটিটি যখন লাস্টের পর্যায়ে তখন আমি রুমের বাইরে একটা হট্টগোলে শব্দ শুনতে চাই। হট্টগোল হচ্ছে, খুব চিৎকার, চেচামেচি হচ্ছে। প্রথম যে চিৎকারটি আমার কানে আসল, সেটা স্যারের। তিনি বলছেন, ভাই আপনি আমার গায়ে হাত তুললেন কেন? আপনি তো আমার গায়ে হাত তুলতে পারেন না।
তো, এটা আমি ফার্স্ট শুনলাম। আমার প্রথমে ধারণা হয়েছিল, হতে পারে অন্য কারও সাথে কোনো ঝামেলা বা কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই আমি দেখতে পারি যে, আমার হাজবেন্ড। উনি আসলে ওখানে কেন গিয়েছেন, কী করছেন, আমি আসলে জানি না। ওনাকে টোটালি আউট অব মাউন্ড লাগছিল। এবং উনি খুবই উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। উনার সাথে বেশ কয়েকজন ছেলেও ছিল, তাদেরকে চিনি না। তাকে মারতে মারতে টেনে-হিঁচড়ে রুমটা ভেতর নিয়ে আসেন।
এবং এ রুমটার ভেতর যখন তারা স্যারকে আনলেন, তখন তাকে মারছিলেনই। একপর্যায়ে স্যার তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওই ইটিটি রুমটার একটা কোনায় গিয়ে দাঁড়ালেন। এবং ওই সময় আমার হাজবেন্ড আনফরচুনেটলি, ভেরি আনফরচুনেটলি ওই ছেলেদের বললেন, তোরা এই দুই জনের ভিডিও কর। এবং আমি তখন ইটিটি’র পোশাকে ছিলাম। গায়ে বিভিন্ন রকমের তার-টার লাগানো ছিল। সেটা খুব শালীন অবস্থা ছিল না। তো আমি আমার হাজবেন্ডে সাথে শাউট করছিলাম যে, এই রুমে তো কোনো ছেলে ঢোকার কথা না। আপনি ঢুকেছেন কেন এবং এতগুলো লোক নিয়ে কেন ঢুকেছেন। আপনি আবার এদের বলছেন ভিডিও করার জন্য।
তো এটা নিয়ে আমি তার সাথে শাউট করছিলাম। তখন তিনি আমাকেও দুই-তিনটা চড় মারেন। তো পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়ে যায়, আমার ড্রাইভারও ছুটে আসে। ও মাঝখানে দাঁড়ায়। আমার ড্রাইভারের ওপর দিয়ে আসলে আমার গায়ে হাত তোলা হয়। এবং একটা পর্যায়ে, যারা ভিডিও করছিল, একটা ছেলের হাত থেকে আমি ফোন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় ওর সঙ্গে আমার একটা হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। আমি কোনোভাবেই চাচ্ছিলাম না, ওরা এই অবস্থায় আমার ভিডিও করুক।
এইউ