দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি সাঁতার জানতেন। পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বড় কোর্সও করেছিলেন তিনি। ছিল সেই কোর্সের সনদও। তাই কিছু লোকের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন—বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া এ তথ্য মানতে নারাজ তাঁর বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।
তিনি বলেন, ‘কেন তাহসিফকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সাঁতারের কোর্স করা এবং তার সনদও আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’
ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তাঁরা দুজন কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছ থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার জানান, দ্বীপকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানিয়েছেন, কয়েকজনের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে আসেন। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া এ তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দ্বীপ একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
দ্বীপ কেন একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন, জানতে চাইলে পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে সেখানে যাওয়ার পর তাহসিফকে ফেলে দ্বীপ কেন একা চলে গেলেন, তা এখনো তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’—মাকে এ কথা বলে বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এমএম/