দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়াতে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আয় বাড়ানো এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চা বিক্রির অনুমোদন পাওয়া গেছে। নভেম্বরেই এ পণ্য বাজারে আনার আশা করছেন তাঁরা।
টিসিবি চেয়ারম্যান আরও জানান, আটা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করে নতুন পণ্য যুক্ত করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে এসব পণ্য বাজারে আনা হবে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে টিসিবি। এতে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার পাশাপাশি সংস্থাটিও কিছুটা মুনাফা করছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে টিসিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে আয়ও বাড়বে। নতুন পণ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করাই তাঁদের লক্ষ্য।
বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
ফয়সল আজাদ জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর চার মাসের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চায় টিসিবি। নতুন পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় এবং এ উদ্যোগের কারণে ভর্তুকির আওতায় থাকা পণ্যের দাম বাড়বে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। এ কর্মসূচিতে পণ্য সরবরাহের জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে টিসিবি।
এমএম/